ভয়াবহ নদী দূষণ

সবার জন্য অশনিসংকেত

এফএনএস | প্রকাশ: ১৮ মার্চ, ২০২৬, ০৫:০৬ এএম
সবার জন্য অশনিসংকেত

বাংলাদেশের পরিচয়ই নদীমাতৃক দেশ। অসংখ্য নদ-নদী আমাদের জীবন, অর্থনীতি ও সংস্কৃতির সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। কিন্তু আজ এই নদীগুলোই মারাত্মক সংকটে। নাব্যতা হারাচ্ছে, শুকিয়ে যাচ্ছে, আর সবচেয়ে ভয়াবহ হলো- অতিরিক্ত দূষণে প্রাণহীন হয়ে পড়ছে। সামপ্রতিক গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, উপকূলীয় নদী ও মোহনায় ভারী ধাতুর দূষণ উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। বাঁকখালী নদী ও মহেশখালী চ্যানেল সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ক্যাডমিয়ামের মতো ক্ষতিকর ধাতুর উপস্থিতি শুধু পানির মান নষ্ট করছে না, বরং ম্যানগ্রোভ বন, নদীর তলদেশের জীববৈচিত্র্য এবং সামুদ্রিক খাদ্যচক্রকে বিপন্ন করছে। কোথাও কোথাও মাছের প্রজাতি বিলুপ্তির পথে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্যে। দূষণের উৎস আমাদের অজানা নয়। শিল্প-কারখানার অপরিশোধিত বর্জ্য, নগর পয়োনিষ্কাশন, কৃষিতে ব্যবহৃত কীটনাশক, জাহাজ ভাঙা কার্যক্রম, বন্দরভিত্তিক নৌচলাচল- সবশেষে গিয়ে নদীতে মিশছে। অথচ কার্যকর প্রতিরোধ নেই। আলোচনা হয়, সেমিনার হয়, কিন্তু বাস্তবায়ন হয় না। ফলে নদী ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে এগোচ্ছে। এখনই থামতে হবে। নদীকে আদালত ‘জীবন্ত সত্তা’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। সেই স্বীকৃতি বাস্তবে কার্যকর করতে হবে। শিল্পবর্জ্য শোধনাগার বাধ্যতামূলক করতে হবে, নদীর তীরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে হবে, আর দূষণকারীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে নদী পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিতে হবে। নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে নিয়মিত খনন, পানির প্রবাহ নিশ্চিত করা এবং নদীভিত্তিক গবেষণা বাড়ানো জরুরি। জনসচেতনতা তৈরি করাও অপরিহার্য। মানুষকে বোঝাতে হবে নদী শুধু প্রাকৃতিক সম্পদ নয়, আমাদের অস্তিত্বের অংশ। নদী রক্ষা মানে আমাদের ভবিষ্যৎ রক্ষা। বাংলাদেশের অর্থনীতি, কৃষি, মৎস্যসম্পদ ও পরিবেশ- সবকিছুই নদীর ওপর নির্ভরশীল। নদী শুকিয়ে গেলে কৃষি উৎপাদন কমে যাবে, মাছের প্রজাতি বিলুপ্ত হবে, খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে। নদী দূষিত হলে পানির মান নষ্ট হবে, মানুষের স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়বে। তাই নদী রক্ষা মানে দেশের জীবন ও জীবিকা রক্ষা। সরকারকে এখনই কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। শিল্পবর্জ্য শোধনাগার বাধ্যতামূলক করা, নদীর তীরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা, দূষণকারীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান শাস্তি নিশ্চিত করা- এসব পদক্ষেপ জরুরি। একই সঙ্গে নদী পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিতে হবে। নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে নিয়মিত খনন, পানির প্রবাহ নিশ্চিত করা এবং নদীভিত্তিক গবেষণা বাড়ানো জরুরি। আমরা মনে করি, নদী রক্ষা শুধু পরিবেশ নয়, অর্থনীতি ও জনজীবনের জন্যও অপরিহার্য।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে