এবার ঈদুল ফিতরে বেশ লম্বা ছুটি পেয়েছে দেশবাসী। তাই ঈদকে সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ঘরে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন মানুষ। তবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের অনেক মহাসড়কে খানাখন্দের কারণে যান চলাচল ধীর হয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও সড়ক এতটাই ভাঙাচোরা যে হাঁটা চলাও কঠিন হয়ে পড়েছে। উত্তরবঙ্গ, দক্ষিণাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চলের বেশ কয়েকটি মহাসড়কে সংস্কারকাজ চললেও তা ধীরগতির হওয়ায় যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ছে। যশোর-খুলনা ও যশোর-ঝিনাইদহ মহাসড়কের বেহাল অবস্থা নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রী ও চালকেরা। সড়কের একাধিক স্থানে কার্পেটিং উঠে বড় বড় খানাখন্দ তৈরি হওয়ায় যান চলাচল ধীরগতির হয়ে পড়েছে। ফলে গন্তব্যে পৌঁছাতে নির্ধারিত সময়ের তুলনায় অনেক বেশি সময় লাগছে এবং বাড়ছে যানবাহনের যান্ত্রিক ক্ষতির আশঙ্কা। ঈদযাত্রার আগে স্থায়ী সমাধান নিয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো আশ্বাস মেলেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে। চালকদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিশেষ করে যশোর-খুলনা মহাসড়কের রূপদিয়া ও প্রেমবাগ গেটসহ কয়েকটি স্থানে রাস্তার অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। জানা গেছে, এসব অংশে প্রায়ই দীর্ঘ যানজট তৈরি হচ্ছে। এতে একদিকে যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়ছেন, অন্যদিকে চালকদেরও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে সড়কে। সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ভাঙাচোরা মহাসড়ক সবচেয়ে বেশি রাজশাহী অঞ্চলে ২২৯ কিলোমিটার, রংপুরে ১৯৪ কিলোমিটার, চট্টগ্রামে ১৮৬ কিলোমিটার, কুমিল্লায় ১৬৭ কিলোমিটার, ময়মনসিংহে ১৫০ কিলোমিটার, সিলেটে ১৪৮ কিলোমিটার, ঢাকায় ১৪৩ কিলোমিটার, বরিশালে ১১৯ কিলোমিটার, গোপালগঞ্জে ৭০ কিলোমিটার এবং খুলনায় ৬৮ কিলোমিটার। সারা দেশে সওজের আওতায় মোট সড়ক রয়েছে ২২ হাজার ৭১৯ কিলোমিটার। এর মধ্যে জাতীয় মহাসড়ক চার হাজার ২৯৩ কিলোমিটার, আঞ্চলিক মহাসড়ক পাঁচ হাজার ৩৯ কিলোমিটার এবং জেলা মহাসড়ক ১৩ হাজার ৩৮৫ কিলোমিটার। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রায় ১৮ মাস সময়কালে সড়ক ও মহাসড়কের অনেক সংস্কারকাজ ঝুলে ছিল বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজও থমকে যায়। বড় প্রকল্পগুলোর কিছু কাজ বাতিল বা বিলম্বিত হওয়ায় সড়ক অবকাঠামোর উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়েছে। ফলে এবারের ঈদযাত্রায় তার প্রভাব পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে হলে যানবাহন চলাচলে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা জরুরি। বিশেষ করে ফিটনেসবিহীন ছোট যানবাহনের বিশৃঙ্খল চলাচল নিয়ন্ত্রণে কঠোর নজরদারি দরকার। একই সঙ্গে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করতে হবে। পাশাপাশি চলমান সংস্কারকাজ দ্রুত শেষ করতে হবে যাতে যাত্রীদের দুর্ভোগ কমানো সম্ভব হয়।