সিটি কর্পোরেশনে সেবার মান বাড়াতে হবে

এফএনএস | প্রকাশ: ১৮ মার্চ, ২০২৬, ০৫:০৬ এএম
সিটি কর্পোরেশনে সেবার মান বাড়াতে হবে

ঢাকা এখন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মহানগরে পরিণত হয়েছে। আর ২৫ বছর পর বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল মহানগর হবে ঢাকা। জাতিসংঘ বলছে, ২০৫০ সালে ঢাকার চেয়ে বড় শহর বিশ্বের আর কোনো দেশে থাকবে না। ঢাকার এই বিশালত্ব নিয়ে আলোচনা কম হয়। জাতিসংঘ মনে করছে, দুটি মহানগরে আগামী ২৫ বছর জনসংখ্যা ৫ শতাংশ হারে বাড়বে। এর একটি ঢাকা, অন্যটি সাংহাই। ঢাকা যেভাবে বাড়ছে, তার সঙ্গে তাল মেলাতে পারছেন না বাংলাদেশের নীতিনির্ধারকেরা। গত কয়েক দশকে ঢাকা মহানগরের আয়তন ও মানুষ যেভাবে বেড়েছে, শহরটি সেভাবে বসবাসের উপযুক্ত হয়ে ওঠেনি। শহরটি অপরিকল্পিত ও অগোছালো। দুর্ভোগ পরিবহনে। আবাসনে পরিকল্পনার ছাপ নেই। বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাসের মতো পরিষেবা নিম্নমানের। শহরে সবুজ পরিসর নেই। নেই ফুটপাত। আছে শব্দ ও বায়ুদূষণ। সমস্যার তালিকা দীর্ঘ। মহানগরজুড়ে ব্যবস্থাপনার সংকট। দীর্ঘদিন ধরেই সিটি কর্পোরেশনসহ দেশের স্থানীয় সরকার প্রশাসনে এক ধরনের স্থবিরতা বিরাজ করছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় স্থানীয় সরকারের নির্বাচন না হওয়ায় সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে স্থানীয় সরকারের প্রশাসক নিয়োগ দেয়ায় সেবার মান ও কাজের গতিশীলতা বাড়েনি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। জাতীয় নির্বাচনের পর স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও তার কার্যক্রম এখনো শুরু হয়নি। তবে ইতোমধ্যে দেশের ৬টি সিটি কর্পোরেশনে রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রশাসক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এতদিন যে সব প্রশাসক সিটি কর্পোরেশনগুলোতে দায়িত্ব পালন করছিলেন তাদের বেশিরভাগই সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে নিজেদের অন্য দায়িত্বের পাশাপাশি সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্ব পালন করছিলেন। স্বাভাবিকভাবেই তারা সেবার মানোন্নয়নে পূর্ণ সময় ও মনোযোগ দিতে পারছিলেন না। এ কারণেই সেবার মান বাড়ানোর লক্ষ্যে সরকার রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে। গত ২২ ফেব্রুয়ারি এক প্রজ্ঞাপন জারি করে ৬টি সিটি কর্পোরেশনে নতুন করে প্রশাসক নিয়োগ দেয় সরকার। আশা করা যাচ্ছিল, রাজনৈতিক বিবেচনায় সরকারি দলের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রশাসক নিয়োগ দেয়ার ফলে সিটি কর্পোরেশনের কাজে নতুন গতি আসবে এবং সেবার মান বাড়বে। বাস্তবে তার তেমন কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। বিশেষত ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন এলাকার মানুষ মশার যন্ত্রণা ও নাগরিক সেবার অপ্রতুলতার সংকট থেকে রেহাই পায়নি। রাস্তায় যেখানে সেখানে নির্মাণ সামগ্রী ফেলে রাখা, অবকাঠামো উন্নয়ন ও সংস্কারের কাজ সময়মত শেষ করা এবং নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে আইনগত বাধ্যবাধকতাসমূহ সঠিক নজরদারি ও জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। রাস্তা, গলিপথ ও হাইওয়ের উপর ময়লার ডাম্পিং, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার অচলাবস্থা দূর করতে ত্বরিৎ উদ্যোগ নিতে হবে। যানজট ও জনদুর্ভোগ লাঘব করতে বর্ষার আগেই রাস্তার জলাবদ্ধতা, মশক নিধন এবং পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার প্রয়োজনীয় সংস্কারের কাজ শেষ করতে হবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে