পবিত্র ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকা ছেড়ে নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছে ঘড়মুখো মানুষ। এসময় সবচেয়ে বেশি তৎপর হয়ে উঠেছে অজ্ঞান ও মলম পার্টির সদস্যরা। অসহায় হয়ে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। র্যাব-পুলিশ সদস্যরাও অজ্ঞান পার্টির হাত থেকে রেহাই পাচ্ছেন না। অজ্ঞান ও মলম পার্টির সদস্যরা দেশের বিভিন্ন লঞ্চ, বাস ও রেল স্টেশনে যাত্রীদের অজ্ঞান করে সর্বস্ব লুট করার টার্গেট নিয়েছে। তারা ফেরিওয়ালা, বাদাম বিক্রেতা, চা বিক্রেতা, ডাব বিক্রেতা, শরবত বিক্রেতাসহ বিভিন্ন বেশে মাঠে নেমেছে। এছাড়া, অজ্ঞান পার্টি ও মলম পার্টির সদস্যরা হাসপাতাল, মার্কেটসহ জনবহুল এলাকায়ও তাদের তৎপরতা শুরু করেছে। অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা বিষাক্ত ঔষধ সুকরল, আচারের পোটলা, বিষাক্ত হালুয়া, কোরোফরম, টিসু পেপার, মলম, সেপ্র, মরিচের গুড়া, বাম, টাইগার বাম ইত্যাদি বিষাক্ত পদার্থ ব্যবহার করে। এসব জিনিস ব্যবহার করায় অনেকে মারাও যাচ্ছে। অজ্ঞান পার্টি ও মলম পার্টির সদস্যরা সকল প্রকার মানুষকেই অজ্ঞান করে থাকে। প্রায় প্রতিদিনই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অজ্ঞান পার্টির কবলে পড়ে নগদ টাকা পয়সাসহ মূল্যবান কাজপত্র হারাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এদের খাওয়ানো নেশা জাতীয় দ্রব্যের বিষক্রিয়ায় আবার কেউ কেউ প্রাণও হারাচ্ছেন। অজ্ঞান হয়ে গুরুতর আহত অনেকেই দীর্ঘ দিন চিকিৎসা নেয়ার পরও পুরোপুরি সুস্থ হচ্ছেন না। শুধু যে নেশা জাতীয় দ্রব্য খাইয়ে অজ্ঞান করে তাই নয়, এ চক্রটি নানা কৌশলে যানবাহনের ভিতরেই চোখ-মুখে বিষাক্ত মলম লাগিয়ে দিচ্ছে। এতে করে অনেকেই স্থায়ীভাবে অন্ধ হযে যাচ্ছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। ট্রেন হলো আমাদের যাত্রাপথের অন্যতম বাহন। সুবিধা বিবেচনায় বিপুলসংখ্যক যাত্রী প্রতিদিন ট্রেনযোগে দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যাতায়াত করে থাকেন। অথচ সেই জনপ্রিয় বাহনটি অজ্ঞান বা মলম পার্টির সদস্যদের টার্গেটে পরিণত হয়েছে। জনবলসংকটের কারণে রেল পুলিশ তাদের থামাতে হিমশিম খাচ্ছে, যাত্রীরাও আশানুরূপ সচেতন নয়, আর এই সুযোগটিই কাজে লাগাচ্ছে অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা। পুলিশ-প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট মহল যাত্রাপথে অপরিচিত কারো নিকট থেকে কিছু খেতে বারবার নিষেধ করে থাকেন বটে; কিন্তু কিছু যাত্রী না বুঝে ভুলবশত অন্যের দেওয়া খাবার গ্রহণ করে থাকেন। ডিজিটাল প্রযুক্তির যুগে যেইখানে অজ্ঞান পার্টি, মলম পার্টি বা গুঁড়ামরিচ পার্টির অপতৎপরতা কারো অজানা থাকবার কথা নয়, সেইখানে যাত্রীরা এই বিষয়ে আরো সচেতন হবে না কেন? তাদের লাগাম টেনে ধরার ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আরো সজাগ দৃষ্টি দিতে হবে, বাড়াতে হবে নজরদারি ও মনিটরিং। পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে সবচেয়ে গুরুত্ব দিতে হবে।