চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে বৃহৎ ঈদের জামাত। সকাল থেকেই উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজারো মুসল্লি দলে দলে নির্ধারিত ঈদগাহ ময়দানে সমবেত হন। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে শান্তিপূর্ণভাবে ঈদের নামাজ আদায় করা হয়। ঈদের নামাজ শেষে দেশ, জাতি এবং সমগ্র মুসলিম উম্মাহর শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মোনাজাতে জাতীয় ঐক্য, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং দেশের সার্বিক কল্যাণের জন্য দোয়া করা হয়।
ঈদের এই বৃহৎ জামাতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক আসলাম চৌধুরী (এফসিএ)। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সীতাকুণ্ডের সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল মামুন, সীতাকুণ্ড মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মহিনুল ইসলাম, জামায়াতের চট্টগ্রাম উত্তর জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার সিদ্দিক চৌধুরীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। ঈদের নামাজ শেষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে এমপি অধ্যাপক আসলাম চৌধুরী বলেন, “ঈদুল ফিতর আমাদের মধ্যে ত্যাগ, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করে। এই শিক্ষা বাস্তব জীবনে প্রতিফলিত করতে পারলেই সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা সম্ভব।” তিনি আরও বলেন, সীতাকুণ্ডের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে। তিনি সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানান, যাতে তারা ঈদের আনন্দ সমাজের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নেন। একইসঙ্গে তিনি ভেদাভেদ ভুলে একটি মানবিক ও কল্যাণমুখী সমাজ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। এ সময় তিনি হাটবাজার ইজারা নিয়ে কিছু অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করেন এবং অনিয়ম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেন। অন্যথায় প্রয়োজনে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ঈদের জামাতে অংশগ্রহণকারী মুসল্লিরা সুন্দর ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে নামাজ আদায় করতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেন। স্থানীয় প্রশাসনের তৎপরতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল চোখে পড়ার মতো, যার ফলে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই জামাত সম্পন্ন হয়। সর্বোপরি, সীতাকুণ্ডে এবারের ঈদের জামাত ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, সামাজিক সম্প্রীতি ও আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপিত হয়েছে, যা এলাকাবাসীর মধ্যে ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করেছে।