ঈদ-উল ফিতরের নামাজের পর পরই মুসুল্লীরা অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার জের ধরে সশস্ত্র হামলা, ভাঙচুর, মারধর এবং লুটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি বরিশালের হিজলা উপজেলার নরসিংহপুর গ্রামের। এজাহার সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার নরসিংহপুর গ্রামের কাজী বাড়ী জামে মসজিদ মাঠে সকাল ১০টায় ঈদের নামাজ শেষে স্থানীয় মুসল্লীরা দীর্ঘদিন ধরে নয়া ভাঙ্গনী নদী থেকে অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের প্রতিবাদ করেন। একপর্যায়ে তারা ড্রেজারের পাইপলাইন খুলে দিয়ে ভবিষ্যতে এ কার্যক্রম বন্ধের দাবি করেন।
অভিযোগে জানা গেছে, এ ঘটনার জেরধরে একইদিন দুপুর আনুমানিক দুইটার দিকে একটি সংঘবদ্ধ সশস্ত্র দল মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক দুলাল সরদারের বাড়িতে হামলা চালায়। এসময় দুলাল সরদারকে বাড়িতে না পেয়ে নারী সদস্যদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং প্রাণনাশের হুমকি প্রদর্শন করেন। একইসাথে হামলা চালিয়ে বসতঘর ভাঙচুর করে প্রায় দেড় লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি করা হয়। থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, হামলার সময় আসামিদের একজন ঘরে প্রবেশ করে আলমিরার ভেতর থেকে আনুমানিক ২ ভরি ৪ আনা ওজনের দুটি স্বর্ণের চেইন, যার মূল্য প্রায় ৬ লাখ ১২ হাজার টাকা নিয়ে যায়। এ সময় মসজিদ কমিটির সভাপতি আলতাফ হোসেন গাজীর ছেলে সজীব গাজী প্রতিবাদ করতে গেলে তাকে লাঠি, লোহার রডসহ দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এলোপাথাড়ি মারধর করে গুরুত্বর আহত করা হয়। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা খুন-জখমের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
এজাহারে পশ্চিম কোড়ালিয়ার মোয়াজ্জেম খান, নরসিংহপুরের রাজা ভুঁইয়া, মাউলতলার মিন্টু তালুকদার, পূর্ব কোড়ালিয়ার মিজানুর রহমান ডেন্টিস এবং আসাদুজ্জামান খান সজলকে নির্দেশদাতা হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৫/৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন চললেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং শেষ পর্যন্ত সহিংসতায় রূপ নেয়। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।