ইরান মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে একাধিক রকেট নিক্ষেপ করেছে। ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, আকাশ-সুরক্ষা সতর্কতা বাজতে শুরু করে তেল আবিবসহ কয়েকটি শহরে। একই দিনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান “ফলপ্রসূ আলোচনা” করেছে। কিন্তু তেহরান তা অস্বীকার করেছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকার কালিবাফ বলেছেন, “যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি। এই মিথ্যা খবর বিশ্ববাজার ও তেলবাজারে প্রভাব বিস্তার করতে ব্যবহার করা হচ্ছে।” ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ডস (আইআরজিসি) ট্রাম্পের কথাকে “মনস্তাত্ত্বিক অপারেশন” বলে অভিহিত করেছে এবং নতুন হামলার ঘোষণা দিয়েছে।
তেল আবিবে আকাশ-সুরক্ষা সতর্কতার শব্দ শোনা গেছে, এবং উত্তরের শহরগুলোতে রকেট প্রতিহত করার সময় বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে কোনো প্রাণহানি ঘটেনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সোমবার লিখেছেন, “আমরা ইরানের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে শত্রুতা সমাধানে খুব ভালো ও ফলপ্রসূ আলোচনা করেছি।”
বিবিসি জানায়, আলোচনার তথ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরস্পরবিরোধী সংকেত আসছে। মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনায় যুক্ত ছিলেন। ইউরোপীয় এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সরাসরি কোনো আলোচনার তথ্য নেই, তবে মেসেজগুলো মিসর, পাকিস্তান ও উপসাগরীয় দেশগুলোতে পৌঁছানো হচ্ছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, “আমি ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছি। ইসরায়েল লেবানন ও ইরান লক্ষ্য করে হামলা চালাতে থাকবে, তবে যুক্তরাষ্ট্র ও আইডিএফের অর্জিত সুযোগ কাজে লাগিয়ে যুদ্ধের লক্ষ্য অর্জনের পথ রয়েছে।” বিবিসি জানায়, নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে যুদ্ধের জন্য প্রভাবিত করার বিষয়টি তুলে ধরেছেন।
রয়টার্স জানিয়েছে, পাকিস্তানিসহ কয়েকটি সূত্রের মতে, সপ্তাহের মধ্যে ইসলামাবাদে যুদ্ধ সমাধানের সরাসরি আলোচনা হতে পারে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি ও ওমানি কর্মকর্তার সঙ্গে হরমুজ প্রণালীর বিষয়ে পরামর্শ চালানোর বিষয়টি চলমান রয়েছে।
ইরান কার্যকরভাবে হরমুজ প্রণালী বন্ধ রেখেছে, যেখানে গত দুই মাসে ২,০০০ জনের বেশি নিহত হয়েছে। রয়টার্স জানায়, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের হুঁশিয়ারির জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশের অবকাঠামোতে আঘাত হানার হুমকি দিয়েছে, যা বৈশ্বিক শক্তি সরবরাহের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বাজারে ইতিবাচক প্রভাব দেখা গেলেও পরিস্থিতি খুবই অস্থিতিশীল। IG মার্কেটের বিশ্লেষক টনি সাইকামোর বলেন, “মৌলিক পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত ভঙ্গুর বা জ্বলন্ত।” ব্রেন্ট ক্রুড প্রতি ব্যারেল ১০৪.২১ ডলারে উঠেছে।