সাভারের আলোচিত ‘সিরিয়াল কিলার’ মশিউর রহমান খান সম্রাট, ওরফে ‘সাইকো সম্রাট’ বা আসল নাম সবুজ শেখ, সোমবার (২৩ মার্চ) সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী থাকা অবস্থায় হঠাৎ বুকে তীব্র ব্যথা অনুভব করলে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে সকাল সাড়ে সাতটার দিকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
সম্রাটের বাড়ি মুন্সীগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলার মৌছামান্দা গ্রামে। পুলিশ জানায়, ২০২৫ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে তিনি সাভার এলাকায় সাতটি ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। সাভার পৌর এলাকার একটি পরিত্যক্ত কমিউনিটি সেন্টারকে তিনি ‘মৃত্যুফাঁদ’ হিসেবে ব্যবহার করতেন। সেখানে ডেকে এনে একাধিক ব্যক্তিকে হত্যা করার অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশি তদন্তে উঠে আসে, নিহত ব্যক্তিদের লাশ কাঁধে বহন এবং মরদেহ পুড়ানোর নৃশংস দৃশ্যও সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়েছিল। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সম্রাটকে গ্রেপ্তার করে। তার বিরুদ্ধে সাভার মডেল থানায় পাঁচটি হত্যা মামলা ছিল, যা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি এবং সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্ন আলামতসহ প্রমাণিত হয়।
চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারি সাভার থানা রোডের পরিত্যক্ত কমিউনিটি সেন্টারের দ্বিতীয় তলা থেকে দুটি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর আগেও একই ভবন এবং সাভার মডেল মসজিদের সামনে একাধিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সম্রাট নিজ কাঁধে করে মরদেহ নিচের তলা থেকে দ্বিতীয় তলায় নিয়ে যাচ্ছেন এবং পরে লাশ পুড়িয়ে দিচ্ছেন।
পরিবারের জন্য সবচেয়ে হৃদয়বিদারক ছিল তানিয়া আক্তারের ঘটনা। নিখোঁজের এক মাস পর পুলিশ ও ভিডিও প্রমাণের মাধ্যমে তার মরদেহ শনাক্ত হয়। তার মা জুলেখা বেগম এবং বোন নাসরিন আক্তার ফারিয়া সম্রাটের মৃত্যুর সংবাদে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন, যা তারা এক ধরনের নীরব বিচার হিসেবে দেখছেন।
সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (অপারেশন) মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, “কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়। পরবর্তী আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে মরদেহ যাচাই-বাছাই শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।”