ঈদের দীর্ঘ ছুটিতে দেশের অন্যতম পর্যটন নগরী শ্রীমঙ্গল পরিণত হয় ভ্রমণপিপাসু মানুষের মিলনমেলায়। ঈদের দিন থেকে শুরু করে টানা কয়েকদিন পর্যটকদের ঢলে মুখরিত ছিল চা-বাগানঘেরা এই জনপদের প্রতিটি দর্শনীয় স্থান।
সাত দিনের ছুটি উপলক্ষে দেশ-বিদেশ থেকে হাজার হাজার পর্যটক ছুটে আসেন শ্রীমঙ্গলে। ছুটি শুরু হয় ১৭ মার্চ থেকে, তবে ঈদের দিন থেকেই পর্যটকদের প্রকৃত চাপ বাড়তে থাকে। এর আগেই অধিকাংশ রিসোর্ট, কটেজ ও বাংলো অগ্রিম বুকিং হয়ে যায়। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা পাহাড়, টিলা, নদী, হাওর ও বিস্তীর্ণ চা-বাগানের টানে পর্যটকদের এমন আগমন প্রতি বছরই দেখা যায়, এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, শ্রীমঙ্গলের বিভিন্ন পর্যটন স্পট চা-বাগান, চা-কন্যা ভাস্কর্য, বধ্যভূমি ৭১, দার্জিলিং টিলা, চা গবেষণা ইনস্টিটিউট, বাইক্কা বিল, ভাড়াউড়া লেক, শংকর টিলা, হাইল হাওর, বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন, টি রিসোর্ট, চা জাদুঘর, রাবার বাগান, লাল টিলা ও গলফমাঠসহ সবখানেই ছিল উপচে পড়া ভিড়।
পর্যটকরা ট্যুরিস্ট জিপ, বাস, মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার, সিএনজি অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ঘুরে বেড়ান। এতে করে শ্রীমঙ্গল-ভানুগাছ সড়কে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। শত শত যানবাহনের চাপে সড়কে দীর্ঘসময় স্থবিরতা দেখা দেয়। যানজট নিয়ন্ত্রণে পর্যটন পুলিশ, শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশ ও কমলগঞ্জ থানা পুলিশকে হিমশিম খেতে হয়।
উপজেলাজুড়ে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় শতাধিক পর্যটন স্পট রয়েছে। পাশাপাশি এখানে বসবাস করে বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষ, যাদের রয়েছে নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি। প্রতিবছর ঈদে এসব বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি ও প্রকৃতির আকর্ষণে পর্যটকদের ব্যাপক সমাগম ঘটে।
বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ঈদের দিন থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত মাত্র তিন দিনেই লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান-এ ৪ হাজার ৭২৪ জন পর্যটক প্রবেশ করেন। এ থেকে রাজস্ব আয় হয় ৫ লাখ ২৮ হাজার ৩০৯ টাকা।
শ্রীমঙ্গলে রয়েছে উঁচু-নিচু পাহাড়ের ভাঁজে বিস্তৃত ৪৪টি চা-বাগান। এসব বাগানজুড়ে ছিল দর্শনার্থীদের ভিড়, বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে সেলফি তোলার প্রবণতা ছিল চোখে পড়ার মতো।
এছাড়া নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর পল্লীগুলোতেও ছিল পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়। মণিপুরি, খাসিয়া, ত্রিপুরা ও সাঁওতাল সমপ্রদায়ের জীবনধারা ও সংস্কৃতি কাছ থেকে দেখতে ভিড় করেন অনেকেই। তাদের হাতে বোনা তাঁতের কাপড় ও হস্তশিল্প সামগ্রী কেনার পাশাপাশি স্থানীয় আতিথেয়তায় মুগ্ধ হন পর্যটকরা।
সব মিলিয়ে ঈদের টানা ছুটিতে শ্রীমঙ্গল আবারও প্রমাণ করেছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সংস্কৃতির বৈচিত্র্য ও পর্যটন সম্ভাবনায় এটি দেশের অন্যতম প্রধান আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র।