পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরের ছুটিতে প্রাচীন বাংলার রাজধানী সোনারগাঁয়ের লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর সহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানগুলোতে দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে। রাজধানী ঢাকার খুব কাছাকাছি হওয়ায় সোনারগাঁয়ের জাদুঘর, বাংলার তাজমহল, পানাম নগর, কলকাতার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতিবসুর বড়ি ও নৌকায় মেঘনা নদী ভ্রমন সহ উপজেলার প্রতিটি দর্শনীয় স্থানে বিভিন্ন বয়সী নারী, পুরুষ ও শিশুদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে। সোনারগাঁয়ের লোক কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের জাদুঘর প্রাঙ্গণ দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠে। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা জন্য স্থানীয় প্রশাসন এসব দর্শনীয় স্থানগুলোতে বাড়তি নজরদারি বাড়ায়। অতিরিক্ত দর্শনার্থীদের চাপে সোনারগাঁয়ের পর্যটন এলাকা গুলোতে যানজটের সৃষ্টি হলে পর্যটকদের ভোগান্তিতে পারতে হয়েছে।
স্থানীয় জানায়, ঈদের দিন থেকে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে হাজার হাজার মানুষ সোনারগাঁয়ের দর্শনীয় স্থান গুলো দোখতে আসে। সোনারগাঁ জাদুঘর, বাংলার তাজমহল ও পানাম নগর ছাড়াও সুলতান গিয়াস উদ্দিন আযম শাহের মাজার, হিন্দু ধর্মাবলম্বিদের ত্রিকাল দর্শী সাধক লোকনাথ ব্রহ্মচারীর আশ্রম, কাইক্কারটেক ব্রীজ, অলিপুরা ব্রীজ এবং বৈদ্যেরবাজার মেঘনা নদীর ঘাটে বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থীর আগমন ঘটেছে। ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা সহ আশপাশের জেলা থেকে দর্শনার্থীরা প্রাচীন বাংলার ঐতিহাসিক রাজধানী সোনারগাঁয়ের ইতিহাস-ঐতিহ্য মন্ডিত স্থান গুলো দেখতে আসে।
ঢাকার টঙ্গী থেকে সামসুল আলম স্বপন সোনারগাঁয়ে অবস্থিত বাংলার তাজমহল দেখতে এসে বলেন, ভারতে যাওয়ার সময় ও সুযোগ না থাকায় স্বপরিবারে সোনারগাঁয়ে বাংলার তাজমহলে ঘুরতে এলাম। বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য বিনোদন কেন্দ্রগুলোর মধ্যে বাংলার তাজমহল অনন্য নিঃসন্দহে।
বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক সাখাওয়াত হোসেন জানান, অন্যান্ন বারের চেয়ে এবার দর্শনার্থীদের সমাগম বেড়েছে। দেশি-বিদেশি পর্যটকসহ কয়েক হাজার দর্শনার্থী জাদুঘরে আদিরূপ উপভোগ করতে ভিড় জমাচ্ছে। পর্যটকদের সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার জন্য এখানে পর্যাপ্ত আনসার, পুলিশ এবং টুরিস্ট পুলিশ মোতায়ন রয়েছে।
সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আল জিনাত জানান, ঐতিহাসিক সোনারগাঁয়ে আগের তুলনায় পর্যটকের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সোনারগাঁয়ের দর্শনীয় স্থানগুলোতে পর্যটকদের নিরাপত্তা দিতে কর্তৃপক্ষের নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি থানা পুলিশের মাধ্যমে অতিরিক্ত নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে।