বঙ্গোপসাগরের তীরের পাথরঘাটার কালমেঘা খালের বুকজুড়ে এখন আর পানি নেই। খালের মধ্যে জেগে উঠেছে কাদা আর জন্মেছে কচি ঘাস। যে খাল একসময় দক্ষিণ কুপদোন গ্রামের সেচের ভরসা ছিল, আজ সেটাই হয়ে উঠেছে দুশ্চিন্তার নাম।
খালের পাড়েই মঙ্গলবার সকালে দেখা গেল ভিন্ন এক দৃশ্য। কাঁধে কলসি, হাতে জাল নিয়ে মানববন্ধনে দাঁড়িয়েছেন কৃষকেরা। চাষিদের ভাষায়, এটি শুধু প্রতীকী প্রতিবাদ নয়, বরং বাঁচার আর্তি। কারণ খাল শুকিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শুকিয়ে যাচ্ছে আলুর মৌসুমের আশা।
দক্ষিণ কুপদোন আলু চাষি সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধনে অংশ নেন গ্রামের অর্ধশতাধিক কৃষক।
তারা বিষখালী নদীর উৎস থেকে কালমেঘা বাজার পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের দাবি জানান।
মানববন্ধনের আগে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সমিতির সভাপতি মিজানুর রহমান। বক্তব্য দেন মাসুম আহম্মদ, সমাজকর্মী গোলাম মোস্তফা। আরো বক্তব্য রাখেন, ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর আলম, আনোয়ার হাজী, পরিবেশকর্মী আরিফুর রহমান, শফিকুল ইসলাম খোকন ও মো. জসীম উদ্দিনসহ অনেকে।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া কৃষকদের অনেকেই কলসি ও জাল হাতে দাঁড়িয়েছিলেন। তাদের মতে, এই চিত্রটাই এখনকার বাস্তবতা। কালমেঘা খালে পানি নেই, তাই দূরের পুকুর থেকে পানি টেনে আনতে হচ্ছে। এতে খরচ বাড়ছে, সময় নষ্ট হচ্ছে, আর অনেক ক্ষেত্রে সেচ দেওয়া সম্ভবই হচ্ছে না।
গ্রামের কৃষক খলিলুর রহমান বলেন, আগে খাল থেকেই সহজে পানি পাওয়া যেত। এখন এক বিঘা জমিতে আলু চাষ করতে খরচ অনেক বেড়ে গেছে। শুধু পানির পেছনেই বড় অঙ্কের টাকা যাচ্ছে। লাভ তো দূরের কথা, খরচই উঠানো কঠিন।
একসময় এই এলাকায় কয়েক শত একর জমিতে আলুর চাষ হতো। এখন সেই চিত্র বদলাচ্ছে। পানি সংকটের কারণে অনেক কৃষক জমি কমিয়ে দিচ্ছেন, কেউ কেউ পুরোপুরি অন্য ফসলে চলে যাচ্ছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা পলাশ চন্দ্র ঘোষ বলেন, সেচব্যবস্থার এমন ভাঙন দীর্ঘমেয়াদে কৃষি উৎপাদনে বড় প্রভাব ফেলে।
তিনি জানান, রূপদন ও কুপদোন এলাকায় এর প্রভাব ইতোমধ্যে দৃশ্যমান। গত বছরের ৫৬০ হেক্টরের জায়গায় এ বছর আলু চাষ হয়েছে ৫০৬ হেক্টর জমিতে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইশরাত জাহান জানান, খাল পুনঃখননের কাজ ধাপে ধাপে এগোচ্ছে এবং অগ্রাধিকার তালিকায় কালমেঘা খাল রয়েছে। তবে মাঠের কৃষকদের চোখে এখনো অনিশ্চয়তা। মানববন্ধনে থাকা এক প্রবীণ কৃষক বলছিলেন, “এই খালটা বাঁচলে আমরা বাঁচব। না হলে চাষ বন্ধ হয়ে যাবে।”