মানব পাচার মামলায় সাবেক জেনারেল মাসুদ উদ্দিন ৫ দিনের রিমান্ডে

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ২৪ মার্চ, ২০২৬, ০৯:০৬ পিএম
মানব পাচার মামলায় সাবেক জেনারেল মাসুদ উদ্দিন ৫ দিনের রিমান্ডে

মানব পাচার ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

মামলাটি রাজধানীর পল্টন থানায় দায়ের করা হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, বিদেশে জনশক্তি পাঠানোর নামে একটি চক্র গড়ে তুলে বিপুল অর্থ আদায় ও আত্মসাৎ করা হয়েছে। পাশাপাশি মানব পাচারের অভিযোগও আনা হয়েছে আসামিদের বিরুদ্ধে।

আদালত সূত্র জানায়, সোমবার (২৩ মার্চ) রাতে রাজধানীর বারিধারা এলাকা থেকে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। পরে তাকে পল্টন থানার মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হয়। শুনানিতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের উপপরিদর্শক রায়হানুর রহমান পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।

আবেদনে বলা হয়, মামলার মূল রহস্য উদঘাটন, পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার, আত্মসাৎ করা অর্থ উদ্ধার এবং পুরো চক্র শনাক্ত করতে আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন। রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল করে জামিন আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আদালতে বলেন, “বিদেশে লোক পাঠানোর নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। পুরো চক্র ও অর্থের গতিপথ জানতে আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।”

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক অর্থ আদায় করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ভয়ভীতি ও বলপ্রয়োগের মাধ্যমে ৮৪১ জনের কাছ থেকে মাথাপিছু দেড় লাখ টাকা করে ১২ কোটি ৫৬ লাখ ১ হাজার টাকা আদায় করা হয়। এছাড়া অন্যান্য ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে।

এই মামলায় সাবেক প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী ইমরান আহমেদ, সাবেক সচিব আহমেদ মুনিরুছ সালেহীনসহ মোট ১০৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলাটি দায়ের করেন আফিয়া ওভারসিজের মালিক আলতাব খান।

ডিবি সূত্রে জানা গেছে, মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে ফেনী ও ঢাকায় মিলিয়ে মোট ১১টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি মামলার বিচার কার্যক্রম চলমান। দীর্ঘদিন পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি ছিল।

এক সময় সেনাবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা এই কর্মকর্তা ২০০৭-০৮ সময়কালে আলোচিত ছিলেন। পরে তিনি জাতীয় পার্টির মনোনয়নে ফেনী-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং অবসরোত্তর সময়ে বিভিন্ন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে