ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে আরও এগিয়ে যেতে চাপ দিচ্ছেন সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, সাম্প্রতিক কয়েকটি ফোনালাপে তিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-কে বলেছেন, এই সামরিক অভিযান মধ্যপ্রাচ্যকে নতুনভাবে গড়ে তোলার একটি “ঐতিহাসিক সুযোগ” তৈরি করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সপ্তাহজুড়ে হওয়া আলোচনায় সালমান ট্রাম্পকে ইরানের কট্টরপন্থি সরকারকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিয়েছেন। তার মতে, ইরান দীর্ঘদিন ধরে উপসাগরীয় অঞ্চলের জন্য বড় হুমকি এবং এই যুদ্ধ সেই হুমকি মোকাবিলার সুযোগ এনে দিয়েছে।
তবে একই সঙ্গে সৌদি ও মার্কিন প্রশাসনের ভেতরে উদ্বেগও বাড়ছে। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে ইরান সৌদি তেল স্থাপনায় আরও কঠোর হামলা চালাতে পারে। এতে যুক্তরাষ্ট্রও দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিতে পড়বে।
এদিকে, ট্রাম্পের অবস্থানও পুরোপুরি পরিষ্কার নয়। সোমবার (২৩ মার্চ) তিনি সামাজিক মাধ্যমে দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে “কার্যকর আলোচনা” হয়েছে। তবে ইরান এই দাবি সরাসরি অস্বীকার করেছে। ফলে কূটনৈতিক উদ্যোগ ও সামরিক তৎপরতা একসঙ্গে চলায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই দ্বৈত অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংকট বিশ্লেষক ইয়াসমিন ফারুক ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ-এর পক্ষ থেকে বলেন, “সৌদি আরব যুদ্ধের সমাপ্তি চায়, তবে কীভাবে শেষ হবে সেটাই মূল বিষয়।” তার মতে, অসমাপ্ত বা অর্ধেক পথে থেমে যাওয়া সামরিক অভিযান ভবিষ্যতে আরও বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
অন্যদিকে সৌদি সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে বলছে, তারা সবসময়ই শান্তিপূর্ণ সমাধানকে সমর্থন করে। এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, “আমাদের প্রধান উদ্বেগ হলো জনগণ ও বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর চলমান হামলা থেকে নিজেদের রক্ষা করা।” একই সঙ্গে তারা অভিযোগ করেছে, ইরান কূটনৈতিক সমাধানের বদলে উত্তেজনা বাড়ানোর পথ বেছে নিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে শুধু নিরাপত্তা নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের প্রভাব পড়বে। ইতোমধ্যে ইরানের পাল্টা হামলায় তেল সরবরাহে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে, যা অর্থনীতি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।