ঢাকার যানজট কমাতে অটোমেশনসহ ৭ সিদ্ধান্ত সরকারের

নিজস্ব প্রতিবেদক
| আপডেট: ২৪ মার্চ, ২০২৬, ১০:২৫ পিএম | প্রকাশ: ২৪ মার্চ, ২০২৬, ১০:২৫ পিএম
ঢাকার যানজট কমাতে অটোমেশনসহ ৭ সিদ্ধান্ত সরকারের

রাজধানী ঢাকার দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যা নিরসনে বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক ও কার্যকর করতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় একাধিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যার বাস্তবায়ন শুরু হলে দ্রুতই পরিস্থিতির উন্নতি দেখা যেতে পারে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত ‘ঢাকা শহরের যানজট নিরসন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন’ শীর্ষক এক বিশেষ বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকের তথ্য নিশ্চিত করে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, ট্রাফিক ব্যবস্থাকে যুগোপযোগী করতে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

সরকারি এই উদ্যোগের পেছনে মূল কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে রাজধানীর ক্রমবর্ধমান যানজট ও অপরিকল্পিত পরিবহন ব্যবস্থা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় সমন্বয়ের অভাব এবং অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়েছে। তাই এবার সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে সমস্যার স্থায়ী সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।

বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো 

১. ঢাকার ১২০টি ট্রাফিক সিগন্যাল দেশীয় প্রযুক্তিতে অটোমেশন করা হবে।

২. শহরের চারপাশে নতুন বাইপাস সড়ক এবং ভেতরে ওভারপাস ও আন্ডারপাস নির্মাণ করা হবে।

৩. যত্রতত্র থাকা বাস কাউন্টার সরিয়ে পাঁচটি আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল শহরের বাইরে স্থাপন করা হবে। এই টার্মিনালগুলো শুধু সিটি সার্ভিসে ব্যবহার হবে।

৪. রাস্তার দু’পাশের সড়ক দখলমুক্ত করা হবে এবং রাস্তার মাঝে বিদ্যুতের খুঁটি সরিয়ে ফেলা হবে।

৫. ঢাকা শহরের ভেতরে লেভেল ক্রসিংয়ে ম্যানুয়াল ব্যবস্থা বজায় রেখে অটো সিগন্যাল লাইটিং সিস্টেম চালু করা হবে।

৬. সিটি বাসকে জিপিএস (গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম) সিস্টেমের আওতায় আনা হবে।

৭. অধিকাংশ ফুটওভার ব্রিজে চলন্ত সিঁড়ি স্থাপন করা হবে এবং হাসপাতাল এলাকায় দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি লিফট বসানো হবে।

দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ঢাকা শহরের চারপাশে নতুন বাইপাস সড়ক নির্মাণ এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ওভারপাস ও আন্ডারপাস তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এসব অবকাঠামোগত উন্নয়ন বাস্তবায়ন হলে ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসবে।

বৈঠকে অংশ নেওয়া দুই সিটি করপোরেশনের প্রশাসকরা জানিয়েছেন, আগামী সোমবার (৭ এপ্রিল) এর মধ্যে অধিকাংশ পরিকল্পনার বাস্তবায়ন শুরু করা সম্ভব হবে। তাদের মতে, স্বল্পমেয়াদি উদ্যোগগুলো কার্যকর হলে এপ্রিলের শেষ নাগাদ যানজট পরিস্থিতিতে দৃশ্যমান উন্নতি আসতে পারে।

এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের সঙ্গে সমন্বয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে শ্রমিক নেতা শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসকে। বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিশ্লেষকদের মতে, পরিকল্পনাগুলো দ্রুত ও সমন্বিতভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে রাজধানীবাসীর দীর্ঘদিনের ভোগান্তি অনেকটাই কমতে পারে। তবে বাস্তবায়নের গতি ও কার্যকারিতার ওপরই নির্ভর করবে এই উদ্যোগের সফলতা।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে