ঐতিহ্যবাহী প্রাচীনবাহন পালকি এখন বিলুপ্ত প্রায়

এফএনএস (মোঃ একরামুল হক মুন্সী; চিতলমারী, বাগেরহাট) : | প্রকাশ: ২৫ মার্চ, ২০২৬, ১২:৫৯ পিএম
ঐতিহ্যবাহী প্রাচীনবাহন পালকি এখন বিলুপ্ত প্রায়

বাগেরহাট জেলার চিতলমারীতে বরকে পালকিতে চড়ে কনে আনার একটি আকস্মিকতায় সাধারণ মানুষকে রিতিমত অবাক করেছে। ঐতিহ্যবাহী প্রাচীনবাহন পালকি এখন বিলুপ্ত প্রায়। সময় আর কালের বিবর্তনে হারিয়ে গেছে গ্রাম বাংলার হাজারো স্মৃতি। সেই স্মৃতিকে ধারন করে পালকির এই আকস্মিকতা পথচারী এবং স্থানীয়দের নজর কেড়েছে। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) বিকেলে চিতলমারী সদর বাজারের সড়ক বেয়ে  পালকিটি কনের বাড়ীর উদ্দেশ্যে যায়।  স্থানীয় প্রিন্স মন্ডল বলেন, বর্তমান দেখা জায়না পালকি ওয়ালাদের বিভিন্ন ঢং।দেখা জায়না নুপুর পায়ে নাচ ও বিয়ে বাড়ীতে গান শুনতে আসা নারী-পুরুষের ভীড়। সেই সোনালী দিন গুলো আর ফিরে আসবেনা। আধুনিকতার ছোয়ায় এখন ধর্নাঢ্য শ্রেণীর অনেকে “মা” বাবার অশাপূরনের জন্য হেলিকপ্টরে চড়ে বিয়ে করেন। আবার মধ্যবিত্ত পরিবারের লোকজন প্রায়ই যান বাহনে চড়ে বিয়ে করেন। ৩০ থেকে ৪০ বছর পূর্বে  বিয়ে করতে যাওয়া সকল শ্রেনির বর কনের একমাত্র বাহন ছিলো পালকি। পালকি ঘিরে কত হাসি তামাশার গল্প আজও শোনা যায়। উপজেলার আড়ুয়াবর্নী গ্রামের আনিস তরফদার,শিবপুরের শোভা শেখ সহ অনেকে বলেন, আমরা ছোট বেলায় দেখেছি ৪ থেকে ৮ জন বাহক পালাক্রমে পালকি কাঁধে তুলে বর-কনে নিয়ে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেত।

 বর-কনের প্রায়ই রাতে বিবাহ হতো এবং গভীর রাতে পালকিতে চড়ে বর ও কনেকে দীর্ঘ রাস্তা পাড়ি দিয়ে ছন্দে ছন্দে গান পরিবেশন করে গ্রামগঞ্জের রাস্তা পাড়ি দেয়া হত। অপর দিকে বরের বাড়িতে কুলোতে ধান দূর্বা নিয়ে নববধূকে বরণ করার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতেন বরের মা’ ও বোনেরা। আজ  সে সকল দৃশ্য  বিলুপ্ত প্রায়।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে