ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরতে শহরমুখী ও কর্মমুখী মানুষের ঢলে মুখর হয়ে উঠেছে লক্ষ্ণীপুরের মজুচৌধুরীর হাট নৌঘাট। তবে লঞ্চ সংকট, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় এবং নাব্য সমস্যার কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। লক্ষ্ণীপুর-ভোলা-বরিশাল নৌরুটে যাত্রীদের চাপ বেড়েছে কয়েকগুণ। ২৫ মার্চ ভোর থেকেই ঘাটজুড়ে ছিল যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। অনেকেই সকাল ৬টায় এসে দুপুর পর্যন্ত বাসের অপেক্ষায় বসে থাকতে বাধ্য হন। সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে না পেরে কর্মমুখী এসব যাত্রীদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। যাত্রীদের অভিযোগ, নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি টাকা আদায় করা হচ্ছে। যেখানে লঞ্চ ভাড়া ১৮০ টাকার ভাড়া, সেখানে নেওয়া হচ্ছে ২০০ টাকা। আবার মজুচৌধুরীর হাট থেকে চট্টগ্রাম রুটে ৪০০ টাকার ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ৬০০ টাকা। ভাড়া বাড়িয়ে নেওয়া হচ্ছে ২০০ টাকারও বেশি। ভুক্তভোগী এক যাত্রী জানান, “৪০০ টাকার ভাড়া ৬০০ টাকা দিয়ে টিকিট কেটেও তিন থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টা লক্ষ্ণীপুর মজুদ চৌধুরী হাটগাটে বসে থাকতে হয়েছে। বাস দূরে রেখে সংকট দেখানো হচ্ছে। পাওয়া যায় না, একই অবস্থা ভোলা ইলিশা রুটেও।” আরেক যাত্রী বলেন, “সকাল থেকে বসে আছি, লঞ্চ পাই না। ২০ টাকা ভাড়া বেশি নিচ্ছে, তারপরও যেতে পারছি না। কাজে দেরি হয়ে যাচ্ছে।” যাত্রীরা জানান, নৌপথে লঞ্চ সংকটের পাশাপাশি নাব্য সমস্যাও চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করছে। এতে করে ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফেরা মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়ছে। নাব্য সংকট দূর করে নৌপথে শৃঙ্খলা ফেরানো না গেলে ভবিষ্যতেও এমন ভোগান্তি অব্যাহত থাকবে বলে আশঙ্কা যাত্রীদের।