আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতির দাবি

গণহত্যা দিবসে কলমাকান্দায় নানা কর্মসূচি

এফএনএস (রিনা হায়াত; কলমাকান্দা; নেত্রকোনা) : | প্রকাশ: ২৫ মার্চ, ২০২৬, ০৩:১৩ পিএম
গণহত্যা দিবসে কলমাকান্দায় নানা কর্মসূচি

২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে দিনব্যাপী এসব কর্মসূচিতে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয় এবং ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন বক্তারা। দিনের শুরুতে উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। পরে সকাল সাড়ে ১১টায় গণহত্যা দিবস উপলক্ষে স্মৃতিচারণ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ভারপ্রাপ্ত ইউএনও ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহমুদুল হাসান। আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. সাইফুল ইসলাম, কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিদ্দিক হোসেন, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল বারি চাঁন মিয়া, উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. কনিকা সরকার, উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মো. তারিকুল ইসলাম, উপজেলা এনসিপির সমন্বয়ক আবু কাওছার এবং কলমাকান্দা প্রেসক্লাব সভাপতি শেখ শামীম প্রমুখ।

এসময় উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবক মো. মজিবুর রহমান, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা জান্নাতুল ইসলাম মিম, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মমিনুল ইসলাম, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. আশরাফুল ইসলামসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাত বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক বিভীষিকাময় অধ্যায়। সেই রাতে নিরস্ত্র মানুষের ওপর চালানো বর্বর হত্যাযজ্ঞ বিশ্ব মানবতার ইতিহাসে এক কলঙ্কজনক ঘটনা। এই ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা এবং তা থেকে শিক্ষা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। বক্তারা আরও বলেন, গণহত্যার স্মৃতি শুধু শোক নয়-এটি আমাদের দায়িত্ববোধ জাগ্রত করে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে বৈষম্যহীন, মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। এসময় বক্তারা সরকারের কাছে ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবসকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি ও উদযাপনের দাবি জানান, যাতে বিশ্ববাসী বাঙালি জাতির ওপর সংঘটিত এই নির্মম হত্যাযজ্ঞ সম্পর্কে আরও সুস্পষ্টভাবে জানতে পারে এবং ভবিষ্যতে এমন মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি পায়। কর্মসূচির অংশ হিসেবে মসজিদ, মন্দির ও অন্যান্য উপাসনালয়ে বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া রাত ১০টা ৩০ মিনিটে প্রতীকী ব্ল্যাক-আউট কর্মসূচি পালন করা হবে। অনুষ্ঠানের শেষে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও নীরবতা পালন করা হয়।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে