সাতক্ষীরা জেলা সদরের জ্বালানি তেলের বাজার স্থিতিশীল রাখতে ও জনভোগান্তি রোধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে জেলা প্রশাসন। বুধবার (২৫ মার্চ) দুপুরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহেদ হোসেনের নেতৃত্বে শহরের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন, বাস কাউন্টার এবং ফলের বাজারে এই তদারকি কার্যক্রম চালানো হয়। অভিযান চলাকালে শহরের এবি খান ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। কর্তৃপক্ষ জানায়, খুলনা থেকে জ্বালানি তেলবাহী লরি পৌঁছানো সাপেক্ষে তারা পুনরায় স্বাভাবিক সরবরাহ শুরু করবে। ম্যাজিস্ট্রেট উপস্থিত থেকে তেল বিক্রয় ও মজুদ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং কৃত্রিম সংকট না তৈরি করতে কঠোর নির্দেশনা দেন। এদিকে জ্বালানি তেলের পাশাপাশি সাধারণ যাত্রীদের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে শহরের সঙ্গীতা মোড়ের দূরপাল্লার বাস কাউন্টারগুলোতেও অভিযান চালানো হয়। সেখানে উপস্থিত যাত্রী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে ম্যাজিস্ট্রেট নিশ্চিত হন যে, এখন পর্যন্ত নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে না। কাউন্টার মালিকদের সতর্ক করে জানানো হয়, বাড়তি ভাড়া আদায়ের প্রমাণ পেলে লাইসেন্স বাতিলসহ কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে শহরের তরমুজের আড়ত ও খুচরা বাজারে অভিযান চালিয়ে বিশৃঙ্খলা পরিলক্ষিত হয়। অনেক দোকানে দৃশ্যমান স্থানে মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে আর্থিক জরিমানা ও আইনানুগ দণ্ড প্রদান করা হয়। অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহেদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, "সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে আমাদের এই নিয়মিত তদারকি চলবে। তেলের মজুদ, বাসের ভাড়া এবং নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে আমরা কঠোর অবস্থানে রয়েছি। পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আমরা ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয় পক্ষকেই পরামর্শ দিচ্ছি।" অভিযান চলাকালীন সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে লিফলেট বিতরণ ও মাইকিং করা হয়। জনস্বার্থে এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে।