ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে নির্বাচনী বিরোধ ও পূর্ব শত্রুতার জের ধরে গত মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) রহিম তালুকদার ও কাসেম গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষে আরও এক ব্যক্তি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। নিহত ব্যক্তি মো. মাফাজুল হক (৫০)। বুধবার (২৫ মার্চ) বেলা তিনটার দিকে ঢাকা উত্তরা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুর ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি গোয়ালনগর ইউনিয়নের সিমেরকান্দি গ্রামের মৃত আব্দুল নূরের ছেলে। এ নিয়ে এ ঘটনা নিহতের সংখ্যা দাঁড়ালো তিনজনে। এর আগে মঙ্গলবার সকালে সংঘর্ষ চলাকালে টেঁটাবিদ্ধ হয়ে মসজিদের ইমাম মাওলানা হাবিবুর রহমান এবং আক্তার মিয়া মারা যান। আহত হন উভয়পক্ষের অন্তত অর্ধশতাধিক। আহতদের স্থানীয় হাসপাতাল ও জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় জাল ভোটের অভিযোগে রহিম তালুকদার গোষ্ঠীর জিয়া মিয়াকে সেনাবাহিনী আটক করে এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেন। কারাগার থেকে মুক্ত হওয়ার পর জিয়া মিয়া সন্দেহ করেন যে স্বতন্ত্র প্রার্থী পক্ষের শিশু মিয়া তার গ্রেফতারে সাহায্য করেছিলেন। এই বিষয়কে কেন্দ্র করে আগে থেকেই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এর জের ধরে গত কয়েকদিন আগেও দুই গোষ্ঠী সংঘর্ষে জড়ায়। একই ঘটনায় মঙ্গলবার সকালে ফের রহিম গোষ্ঠী ও কাসেম গোষ্ঠীর লোকজন টেঁটা-বল্লম নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। নাসিরনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শাহিনুর ইসলাম জানান দুই গ্রুপের সংঘর্ষ ও হত্যার ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।