২ লিটার জ্বালানি তেলের জন্য ১ কিলোমিটার লাইন

কটিয়াদীতে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট

এফএনএস (মোঃ রফিকুল হায়দার টিটু; কটিয়াদী, কিশোরগঞ্জ) : | প্রকাশ: ২৫ মার্চ, ২০২৬, ০৬:৪৩ পিএম
কটিয়াদীতে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট

মধ্যপাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সারাদেশের ন্যায় কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতেও দেখা দিয়েছে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট। যানবাহন বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালকগণ তেলের জন্য পাম্প বা প্যাকে দীর্ঘ লাইনে ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে তেল পাচ্ছেন মাত্র  দুই লিটার। লাইন লম্বা হতে হতে প্রায় এক কিলোমিটার বিস্তৃত হয়েছে। ভিড় সামাল দিতে মোতায়েন রয়েছে পুলিশ। ভিড় সামলে তেল দিতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে প্যাক বা পাম্পের মালিকগণকে। তেলের জন্য এমন হাহাকার পরিস্থিতিতে ভোক্তাগণের দুর্ভোগ বেড়েছে।  বুধবার সকালে কটিয়াদী বাজারের মেসার্স দেবনাথ রাধানাথ রায়ের তেলের দোকানে তীব্র ভিড় দেখা গেছে। লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে অনেক মোটরসাইকেল চালককে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর গত তিন সপ্তাহ ধরে ফিলিং স্টেশনগুলোতে পেট্রোল ও অকটেনের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। জ্বালানি তেলের সংকট নিরসনে প্রশাসনের ভূমিকা জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন ভোক্তাগন।  সরেজমিনে দেখা যায়, পেট্রোল ও অকটেনের স্বাভাবিক সরবরাহ বন্ধ থাকায় সাধারণ ভোক্তাদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। কোথাও সীমিত সরবরাহ এলেও তা দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে। অনেকেই প্রয়োজনীয় জ্বালানি না পেয়ে মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যানবাহন ব্যবহার করতে পারছেন না। ফলে অনেক যানবাহন পেট্রোল না নিয়েই ফিরে যাচ্ছে। ব্যবসায়ী ও চাকরির কাজে যারা মোটরসাইকেল নিয়মিত ব্যবহার করেন, তারা পড়েছেন বিপাকে। অনেকের পথের মধ্যে তেল শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে মোটরসাইকেল ঠেলে নিয়ে যেতে দেখা যাচ্ছে।  এদিকে সংকটের সুযোগ নিয়ে কোথাও কোথাও কিছু খুচরা ব্যবসায়ী খোলা বাজারে প্রতি লিটার পেট্রোল ও অকটেন প্রায় ২০০-২৫০ টাকা দরে বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মোটরসাইকেল চালক খায়রুল ইসলাম বলেন, “দুই লিটার করে তেল দেওয়া হচ্ছে। এর জন্য এক কিলোমিটার লম্বা সিরিয়ালে দাঁড়িয়ে আছি। এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় ঘুরেও কোথাও তেল পাচ্ছি না।” তেল খোঁজতেই তেল শেষ হয়ে যাচ্ছে। ঠিকমত কাজ করতে পারছিনা।  মোটরসাইকেল চালক মোঃ হোসেন আলী বলেন, “গ্রামের খুচরা ব্যবসায়ীরা তেল কোথায় পাচ্ছে, তা খুঁজে বের করা জরুরি। পাম্প থেকে তেল বাইরে চলে যাচ্ছে কি না, সেটাও খুঁজে দেখা প্রয়োজন। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হওয়ার কারণে আমাদের ভোগান্তি বেড়েই চলেছে।” কটিয়াদী বাজারের মেসার্স দেবনাথ রাধানাথ রায় তেল প্যাকের স্বত্বাধিকারী দেবাশীষ রায় পার্থ বলেন, “৩ হাজার লিটার পেট্রোল পেয়েছিলাম। তীব্র চাহিদার কারণে কিছুক্ষণের মধ্যেই শেষ হয়ে গেছে। গ্রাহকেরা যেভাবে ভিড় করছেন, তাতে স্বাভাবিক তেল বিক্রি চালিয়ে যাওয়া আমাদের জন্য বাড়তি বিড়ম্বনা। ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।” বুধবার পাম্প বন্ধ থাকার বিষয়ে খাঁন ব্রাদার্স এন্ড ফিলিং স্টেশানের ম্যানেজার আশরাফুল হক কাজল জানান, সংকট সৃষ্টির পূর্বে  দিনে প্রতিদিন এক হাজার থেকে বারশত লিটার তেলের চাহিদা ছিলো। কিন্তু ঈদের পরের দিন সাড়ে চার হাজার লিটার তেল পাওয়ার পর একদিনে তা শেষ হয়ে যায়। পুনরায় ডিও দেয়া আছে। তেল পেলেই পাম্প চালু করা হবে।  উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামীমা আফরোজ মারলিজ বলেন, জ্বালানি তেলের কোন সংকট নেই। পাম্প বা প্যাকে নিয়মিত যে পরিমান তেল সরবরাহ করা হতো তা বর্তমানেও বিদ্যমান আছে। তবে ভোক্তাগণ অতিরিক্ত তেল নেয়ার কারণে কৃত্রিম সংকট তৈরী হয়েছে। ভোক্তাগণকে ধৈর্য্য ধরার আহবান জানান। প্রশাসন সার্বক্ষনিক পর্যবেক্ষণ করছে। কৃত্রিম সংকটও দ্রুতই দূর হয়ে যাবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে