রাজশাহীর বাঘায় টানা কয়েকদিন ধরে পেট্রোল ও অকটেনের তীক্র সংকট দেখা দিয়েছে। এতে স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। পেট্রোল পাম্প বন্ধ রয়েছে। সরেজমিন দেখা যায়, উপজেলা সদরের একমাত্র পেট্রোল পাম্পটি পুরো দুই সপ্তাহ ধরে বন্ধ রয়েছে। বুধবার (২৫ মার্চ) সকালে বন্ধ দেখা গেছে। দুপুরে তেল আসবে-এমন আশায় অনেকেই অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাঘা উপজেলায় মনিগ্রাম, তেঁতুলিয়া ও আড়ানীতে জ্বালানি তেলের ডিপো বন্ধ রয়েছে। এসব ডিপোতে তেল দেওয়া হচ্ছেনা। সাধারণ মানুষ জ্বালানি পাচ্ছেন না। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন মোটরসাইকেল চালক, কৃষক ও পরিবহন শ্রমিকরা। চলতি বোরো মৌসুমে সেচযন্ত্র চালাতে পাবে কী না তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন অনেক কৃষকরা। একই সাথে পরিবহন খাতেও দেখা দিয়েছে ব্যাপক স্থবিরতা। আড়ানী পৌর বাজারের মোটরসাইকেল চালক শফিকুল ইসলাম বলেন, “পাম্পে তেল নেই, বেশি দামেও পাওয়া যাচ্ছেনা। “এই সময়ে কৃষকরা জমিতে সেচ না দিলে ফসল নষ্ট হয়ে যাবে।” তিনি আরও বলেন, তেলের অভাবে এক সপ্তাহ থেকে মোটরসাইকেল বাড়ি থেকে বের করতে পারেনি। কথাও তেল পাওয়া যাচ্ছে না। গোচর গ্রামে মোটরসাইকেল ব্যবহারকারী সেলিম রেজা বলেন, মোটরসাইকেলের তেল না পাওয়ার কারনে, প্রেতিবেশি এক বোনের বিয়ে দাওয়াত খেতে যেতে পারেনি। এ বিষয়ে ফিলিং স্টেশন মালিক ও ডিপো মালিকরা বলেন, সরবরাহ বন্ধ থাকায় তারা বাধ্য হয়ে বন্ধ রেখেছেন। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাম্মী আক্তার বলেন, জ্বালানি সংকটের বিষয়ে নজরদারির শুরু করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে বিপর্যস্ত যেন না হয়, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এরপরও বিষয়টি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে।