ফুলবাড়ীয়া পৌরসভায় নেই ডাম্পিং স্টেশন, দুর্ভোগে পৌরবাসী। গর্তে ফেলা হচ্ছে বর্জ্য। জানা গেছে, ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া পৌরসভা ২০০১ সালে গঠনের পর কেটে গেছে বহু বছর। সময়ের পালাবদল হলেও তেমন কোনো আধুনিকতার ছোঁয়া লাগেনি পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনায়। উপজেলা শহরে নেই নির্দিষ্ট ও পরিকল্পিত কোনো ডাম্পিং স্টেশন। ফলে প্রতিদিনের বাসাবাড়ি ও বাজারের বর্জ্য যত্রতত্রভাবে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখা হচ্ছে বিভিন্ন সড়ক ও খোলা জায়গায়। এতে শহরের সৌন্দর্য নষ্টের পাশাপাশি দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। পৌরসভা বলছে, ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় সরকারি খাস জমির গর্তে বর্জ্য ফেলা হচ্ছে।
জানা যায় ফুলবাড়ীয়া পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের চান্দের বাজার খাল পাড় এলাকার নূরে হেরা হাফিজিয়া মাদ্রাসা পাশে স্থানীয় একটি খাস জমি গর্তে অস্থায়ী ডাম্পিং স্টেশন হিসেবে সেটি ব্যবহার শুরু করে পৌরসভা। কিছুদিন সেখানে বর্জ্য ফেলা হলেও বর্তমানে ঠিকঠাকমতো ফেলা হচ্ছে না। প্রতিদিনের বাসাবাড়ি ও বাজারের বর্জ্য যত্রতত্রভাবে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখা হচ্ছে বিভিন্ন সড়ক ও খোলা জায়গায়। এতে শহরের সৌন্দর্য নষ্টের পাশাপাশি দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। আর ভোগান্তিতে পড়েছে জনসাধারণ। সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গর্তটির চারপাশজুড়ে ঘনবসতিপূর্ণ বাড়িঘর। ফলে এলাকার মানুষ প্রতিদিনই দূষিত পরিবেশের সঙ্গে লড়াই করে দিন কাটাচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বারবার আপত্তি জানানো হলেও এখনো কোনো ব্যবস্থা নেয়নি পৌরসভা।
পশ্চিম ‘বাজারের প্রায় সব জায়গায় ময়লা স্তূপ করে রাখা আছে। কারণ, অসহনীয় গন্ধ। বর্জ্যরে গন্ধ, মাছির উপদ্রব, রোগবালাই ও পরিবেশদূষণে এই এলাকা ছাড়াও আশপাশের পুরো এলাকার মানুষ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।’ চান্দের বাজার এলাকার বাসিন্দা আজাফর আলী বলেন, ‘ময়লার দুর্গন্ধে আমাদের বাসা বাড়িতে থাকায় কঠিন হয়ে গেছে। রমজান মাসে দুর্গন্ধে - কষ্ট যন্ত্রণা সহ্য করে জীবন যাপন করছি। চান্দের বাজার খাল পাড় এলাকার পল্লী চিকিৎসক তোফাজ্জল হোসেন তারা বলেন, ‘আমরা জানি সব সময় ময়লা-আবর্জনা ফেলতে হয় লোকালয় ছাড়া নির্জন জায়গায়। কিন্তু ফুলবাড়ীয়ায় ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে রাস্তার পাশে উন্মুক্ত বসতবাড়ির পাশে। এতে পরিবেশ ও মানুষের অনেক ক্ষতি হচ্ছে। ময়লার দুর্গন্ধে রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় নাক ধরে যেতে হয়। আমরা সুস্থভাবে বাঁচতে চাই।’ একই এলাকার মিনা চৌহান বলেন, ‘ময়লার স্তূপে সব সময় কুকুর আসে। এতে আমাদের বাড়ির ছোট বাচ্চারা কুকুরের ভয়ে বাইরে বের হয়ে খেলতে পারে না।’ জামিয়া নূরে হেরা মাদ্রাসা শিক্ষক জহিরুল ইসলাম বলেন, ফুলবাড়ীয়ায় পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অব্যবস্থাপনা দিন দিন প্রকট হয়ে উঠছে। বিভিন্ন সময়ে উন্মুক্ত স্থানে জমে উঠছে আবর্জনার স্তূপ, যা পথচারী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের জন্য চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। দ্রুত সময়ের মধ্যে একটি পরিবেশবান্ধব করবে পৌর কর্তৃপক্ষ, এটাই আমাদের দাবি।’ এ বিষয়ে ফুলবাড়ীয়া পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শেখ তাকি তাজওয়ার বলেন, পৌরসভার নিজস্ব জমি না থাকায় খাস জায়গায় বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। তবে ভবিষ্যতে পৌরসভা প্রকল্প’-এর আওতায় একটি আধুনিক ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।