রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মা নদীতে বাসডুবির ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৫ জনে দাঁড়িয়েছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ১১ জন নারী, ৭ জন শিশু এবং ৭ জন পুরুষ, যা এই দুর্ঘটনার ভয়াবহতাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) তাপস কুমার পাল এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর মো. হাফিজুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি যাত্রীবাহী বাস নদীতে পড়ে গেলে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয় এবং এখন পর্যন্ত ২৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর মো. হাফিজুর রহমান জানান, উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে এবং নিখোঁজদের সন্ধানে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কাজ করছে।
এর আগে বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের ৩ নম্বর পন্টুনে কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস ফেরিতে ওঠার সময় হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সরাসরি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাসটি ফেরিতে ওঠার মুহূর্তেই ভারসাম্য হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়, ফলে যাত্রীদের মধ্যে হুড়োহুড়ি ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।
ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিস, নৌপুলিশ এবং স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। ডুবুরি দল নদীতে তল্লাশি চালিয়ে একে একে মরদেহ উদ্ধার করে।
এই দুর্ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতদের স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।