ভিয়েতনামের বিপক্ষে ভালো একটি ম্যাচ খেলে আত্মবিশ্বাস নিয়ে সিঙ্গাপুরের মুখোমুখি হওয়ার লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশের। তবে সেই প্রত্যাশা বাস্তবে রূপ নেয়নি। বৃহস্পতিবার হ্যানয়ে অনুষ্ঠিত ম্যাচে পরিষ্কারভাবেই বোঝা গেছে আন্তর্জাতিক ফুটবলে দুই দলের অবস্থানের পার্থক্য। প্রথমার্ধেই তিন গোল হজম করে ৩-০ ব্যবধানে হেরে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ। যদিও দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান আরও বাড়ানোর একাধিক সুযোগ পেয়েছিল স্বাগতিক ভিয়েতনাম, তবে ক্রসবার ও পোস্টে লেগে কয়েকটি আক্রমণ বিফলে যায়।
পুরো ম্যাচজুড়েই ভিয়েতনামের নিয়ন্ত্রণ ছিল দৃশ্যমান। দ্বিতীয়ার্ধে চারটি পরিবর্তন এনে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন কোচ হ্যাভিয়ের ক্যাবরেরা। জামাল ভূঁইয়া, শাহরিয়ার ইমন, বিশ্বনাথ ঘোষ ও সুমন রেজাকে মাঠে নামানো হলেও তাতে কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন আসেনি। স্বাগতিকদের গোছানো ও ছন্দময় ফুটবলের সামনে বাংলাদেশের সব পরিকল্পনাই ব্যর্থ হয়ে যায়।
এই ম্যাচে বাংলাদেশের একাদশে পাঁচজন প্রবাসী ফুটবলারকে খেলান ক্যাবরেরা, যা দেশের ফুটবল ইতিহাসে প্রথম। এর আগে সর্বোচ্চ চারজন প্রবাসী ফুটবলার একসঙ্গে একাদশে ছিলেন। তবে এই কৌশলও দলকে সুবিধা এনে দিতে পারেনি।
ম্যাচের শেষ দিকে হামজা দেওয়ান চৌধুরী রক্ষণ ছেড়ে আক্রমণভাগে উঠে গিয়ে গোলের চেষ্টা করেন, কিন্তু সেটি সফল হয়নি। মাঝমাঠে শামিত সোম কয়েকটি নিখুঁত পাস দিলেও আক্রমণভাগের খেলোয়াড়রা ভিয়েতনামের রক্ষণভাগকে কার্যকরভাবে চ্যালেঞ্জ করতে পারেননি।
আগামীকাল (শুক্রবার) ভিয়েতনাম থেকে সিঙ্গাপুরে যাবে বাংলাদেশ দল। ৩১ মার্চ স্বাগতিক সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শেষ হবে এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাই পর্বে বাংলাদেশের মিশন। তবে আগেই বাছাই থেকে ছিটকে পড়ায় ম্যাচটি এখন শুধুই আনুষ্ঠানিকতা। কোচ ক্যাবরেরা সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ভালো একটি ম্যাচ খেলে টুর্নামেন্ট শেষ করার আশা করলেও ভিয়েতনামের বিপক্ষে দলের পারফরম্যান্সে সমর্থকদের সেই প্রত্যাশা কিছুটা ম্লান হয়ে গেছে।
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের চেয়ে ৭৮ ধাপ এগিয়ে ভিয়েতনাম। দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ের ইতিহাসেও এগিয়ে তারা। এর আগে তিন ম্যাচে বাংলাদেশ জিততে পারেনি, দুটি ড্র ও একটি হারের রেকর্ড ছিল। সর্বশেষ বিশ্বকাপ বাছাইয়ে ৪-০ গোলে হারের পর এবার ৩-০ ব্যবধানে হারলেও ব্যবধান কমানোই একমাত্র সান্ত্বনা হয়ে থাকল বাংলাদেশের জন্য।
ম্যাচের শুরুতেই চাপে পড়ে বাংলাদেশ। অষ্টম মিনিটে কর্নার থেকে প্রথম গোলটি আদায় করে নেয় ভিয়েতনাম। কর্নার থেকে আসা বলে দো হোয়াংয়ের শট বাংলাদেশের ডিফেন্ডার জায়ান আহমেদের গায়ে লেগে জালে ঢুকে যায়। ১৮ মিনিটে ফ্রিকিক থেকে হেডে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন হুয়ান মান। এরপর ৩৮ মিনিটে হাইলং দুইজন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে তৃতীয় গোলটি করেন।
প্রথমার্ধে বাংলাদেশ তেমন প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি। ফয়সাল আহমেদ ফাহিম-এর একটি ভলি প্রতিহত করেন ভিয়েতনামের গোলরক্ষক। আর সোহেল রানা-র একটি শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়। তবে দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশের আক্রমণে উল্লেখযোগ্য কোনো সুযোগই তৈরি হয়নি।
সব মিলিয়ে, ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য ছিল বাস্তবতার কঠিন এক স্মারক— যেখানে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে আন্তর্জাতিক মানে উন্নতি করতে এখনও অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে।