বিসিজিএস কুতুবদিয়া

চাঁদপুরে স্বাধীনতা দিবসে উন্মুক্ত ছিল কোস্ট গার্ডের যুদ্ধ জাহাজ

এফএনএস (মিজানুর রহমান; চাঁদপুর) : | প্রকাশ: ২৬ মার্চ, ২০২৬, ১০:১০ পিএম
চাঁদপুরে স্বাধীনতা দিবসে উন্মুক্ত ছিল কোস্ট গার্ডের যুদ্ধ জাহাজ

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস (২৬ মার্চ ২০২৬) উপলক্ষে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজগুলো জনসাধারণের পরিদর্শনের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।সেই সুবাদে  চাঁদপুরে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত ছিলো কোস্টগার্ডের জাহাজ ‘বিসিজিএস কুতুবদিয়া’। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বেলা ২টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত চাঁদপুর  ডাকাতিয়া নদীর পুরনো লঞ্চঘাট সংলগ্ন ভিআইপি ঘাটে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে জাহাজটি দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। উন্মুক্ত করে দেয়ার পর থেকেই শিশু থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সী লোকজন জাহাজটি দেখার জন্য আসেন। জাহাজ দেখতে আসা দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইমন হোসেন বলেন, তার বহুদিনের ইচ্ছে ছিলো নৌবাহিনীর যুদ্ধ জাহাজ ঘুর দেখা। তিন নদীর মোহনায় ঘুরতে এসে জানতে পারে এই জাহজাটি দেখার জন্য উন্মুক্ত। দ্রুত জাহাজে চলে আসেন। জানালেন জাহাজটি দেখে তার খুবই ভালো লেগেছে। নবম শ্রেণির নিরব ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আশিকুর রহমান বলেন, তারা দুজনেই জাহাজটি ঘুরে দেখেছেন। জাহাজের দায়িত্বে থাকা লোকজন তাদেরকে বিভিন্ন যন্ত্রাংশ সম্পর্কে ধারণা দিয়েছেন। এই বিষয়ে তাদের পূর্বে অভিজ্ঞতা ছিলো না। জাহাজটি দেখে তাদের নতুন অভিজ্ঞতা হয়েছে। চাঁদপুর জেলা জজ আদালতের আইনজীবী সহকারী জাকির হোসেন মিঠু পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এসেছেন জাহাজ দেখতে। তিনি শহরের বাসিন্দা। তার শিশু সন্তানকে এই প্রথম এমনটি একটি জাহাজ দেখাতে পেরে খুবই আনন্দিত। স্বাধীনতা দিবসে জাহাজটি দেখার সুযোগ করে দেয়া তিনি কোস্টগার্ডকে ধন্যবাদ জানান। জাহাজের অধিনায়ক লে. কমান্ডার রিফাত মাহমুদ বলেন, মহান স্বাধীনতা আমাদের জাতীয় জীবনে এক গৌরবোজ্জল ও তাৎপর্যপূর্ণ দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে স্বাধীনতা ঘোষনার মাধ্যমে বাঙালি জাতি স্বাধীনতার সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে। এরই ধারাবাহিকতায় শুরু হয় দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ, যার মাধ্যমে আমরা অর্জন করি আমাদের প্রিয় স্বাধীনতা। দিবস উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড ঢাকা জোনের অধিনস্থ জাহাজ ‘বিসিজিএস কুতুবদিয়া’ চাঁদপুর ভিআইপি ঘাটে দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে রাখা হয়। জাহাজ পরিদর্শনে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী-পুরুষের স্বতঃস্ফুর্ত উপস্থিতি দেখা যায়। এর ফলে সর্বস্তরের জনগণ বাংলাদেম কোস্ট গার্ডের জাহাজসমূহ সরেজমিন পরিদর্শন, জাহাজের কার্যক্ষমতা এবং বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে অবগত হওয়ার সুযোগ পান। এ সময় উপস্থিত দর্শনার্থীদের নানা কৌতুহলী প্রশ্নের উত্তর দেন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা এবং নাবিকগণ।

তিনি বলেন, কুতুবদিয়া জাহাজটি দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে নিয়মিত টহল প্রদান, অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা, অবৈধ অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান প্রতিরোধ, জলদস্যুতা দমন, মৎস্য ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ এবং সর্বোপরি দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

দেশ ও জনগণের সেবায় কোস্ট গার্ড সর্বদা নিয়োজিত আছে এবং ভবিষ্যতেও এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখবে বলে জানান কমান্ডার।

জানাগেছে, ২০১৫ সালে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের জন্য ২টি ফাস্ট প্যাট্রোল বোট নির্মাণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড এবং ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেড এর মধ্যেকার নৌযান নির্মাণ সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সম্পাদিত চুক্তির অংশ হিসেবে বিসিজিএস কুতুবদিয়া নির্মিত হয়।  ২০১৬ সালের ১ ডিসেম্বর এটির উদ্বোধন য়।  পরবর্তীতে ২০১৮ সালে ১ আগস্ট ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেড কর্তৃক নির্মাণকৃত ইনশোর প্যাট্রোল ভেসেল জাহাজটি বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নিকট আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়। ২০২০ সালের ১৫ নভেম্বর এটির কমিশনিং সম্পন্ন হয়। বৈশিষ্ট্য ও যান্ত্রিক কাঠামো : বিসিজিএস কুতুবদিয়া নৌযানটির দৈর্ঘ্য ৪৩.৪০ মিটার (১৪২.৪ ফুট), প্রস্থ ৬.৪০ মিটার (২১.০ ফুট) এবং গভীরতা ৪.১০ মিটার (১৩.৫ ফুট)। নৌযানটির ওজন ২৩৫ টন। নৌযানটির সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘন্টায় ২৫ নট (৪৬ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা; ২৯ মাইল প্রতি ঘণ্টা)। এছাড়াও এটি ৩০ জন সদস্য নিয়ে একনাগাড়ে ৭ দিন অভিযান পরিচালনা করতে সক্ষম।

রণসজ্জা : বিসিজিএস কুতুবদিয়া নৌযানটির আকার আয়তন অপেক্ষাকৃত ছোট হলেও এর সক্ষমতা আধুনিক বিশ্বে ব্যবহৃত সর্বাধুনিক প্রযুক্তিসমৃদ্ধ। শত্রু জাহাজ মোকাবেলা, চোরাচালান রোধ, জলদস্যূতা দমনে জাহাজটিতে রয়েছে- একটি টুইন ব্যারেল জেডউ-২৩*২৩ মিমি বিমান-বিধ্বংসী নেভাল গান; দুটি টাইপ ৫৬*১২.৭ মিমি বিমান-বিধ্বংসী মেশিনগান; ৬টি কিউডব্লিউ-২ ভূমি থেকে আকাশে উৎক্ষেপণ যোগ্য বিমান-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে