সরকারি কর্মচারী হতে চান কাউন্সিলর, উৎস নিয়ে প্রশ্ন

এফএনএস (বরিশাল প্রতিবেদক) : | প্রকাশ: ২৯ মার্চ, ২০২৬, ১১:২৮ এএম
সরকারি কর্মচারী হতে চান কাউন্সিলর, উৎস নিয়ে প্রশ্ন

ঈদ-উল ফিতর উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়ে ব্যানার-ফেস্টুনে সয়লাব করেছেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশন (বিসিসি)-এর এক সরকারি কর্মচারী। একই সঙ্গে তাকে ঘিরে গুঞ্জন উঠেছে, তিনি আসন্ন বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। জানা যায়, ২০২৩ সালে আওয়ামী লীগের সময় বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সরকারের পতনের পর অভ্যন্তরীণ সরকার এক প্রজ্ঞাপনে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ক্ষমতা বাতিল করে প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। সম্প্রতি জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকার গঠন করার পর স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এর মধ্যেই ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের পাশাপাশি সরকারি চাকরিজীবীদেরও মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে দেখা যাচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় এসেছেন বিসিসির ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের সহকারী সোয়েবুর রহমান শান্ত। সরকারি চাকরিজীবী হয়েও তিনি ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বিভিন্ন স্থানে শুভেচ্ছা ব্যানার টানিয়েছেন এবং ভোটারদের মাঝে ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, ঈদ উপলক্ষে কয়েক লাখ টাকা ব্যয় করে ব্যানার-ফেস্টুন টানানোসহ বিভিন্ন এলাকায় ভোটারদের মাঝে নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, একজন ওয়ার্ড সচিব হিসেবে তার দৃশ্যমান কোনো ব্যবসা না থাকলেও এত অর্থ ব্যয়ের উৎস কী। তবে তার আয় নিয়ে সাবেক এক মেয়ের পদপ্রার্থী নাম প্রকাশের শর্তে বলেন শোয়েব রহমান শান্ত আওয়ামী লীগের সময়ে ওয়ার্ড সহকারী থাকাকালীন সময়ে বাড়ির প্লানিং, জন্ম নিবন্ধন,নতুন পানি লাইনের সংযোগ দিয়ে মোটা অংকের টাকা আয় করেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।


স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, একজন সরকারি কর্মচারী হয়ে এত বিপুল অর্থ ব্যয় করা সন্দেহের সৃষ্টি করেছে। তাদের আশঙ্কা, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কালো টাকার প্রভাব বাড়তে পারে। স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, ২০১৮ ও ২০২৩ সালের বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা কাশীপুরের আলী চেয়ারম্যানের নির্বাচনী কার্যক্রমে দায়িত্ব পালন করেছিলেন সোয়েবুর রহমান শান্ত। সে সময় নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও উঠেছিল বলে দাবি করেছেন কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি। অনেকে মনে করছেন, সেই অর্থ দিয়েই তিনি এবার ওয়ার্ড পর্যায়ে কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

তবে এ বিষয়ে সোয়েবুর রহমান শান্তের মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে মুঠোফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর বিষয়ে তার মতামত জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের মতে, সরকারি চাকরিজীবীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে আইনি ও প্রশাসনিক বিধিনিষেধ রয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে এনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।বাংলাদেশে কর্মরত সরকারি কর্মচারী (অসামরিক ও সামরিক), আধা-সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা সরাসরি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি (ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, সিটি কর্পোরেশন) নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন না। প্রার্থী হতে হলে তাদের সরকারি চাকরি থেকে পদত্যাগ বা অবসর নিতে হবে এবং তা নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশনে প্রমাণ দাখিল করতে হবে। তবে সরকারি কর্মচারী বরিশাল সিটি কর্পোরেশন বিসিসির ১৬নং ওয়ার্ড সচিবের ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা ব্যানারের বিষয়ে জানতে চাইলে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো:রেজাউল বারী বলেন সরকারি কর্মচারী নির্বাচন করতে হলে তাকে আগে সরকারি চাকরি থেকে অব্যহতি নিতে হবে।সে যদি চাকরিতে থাকা কালীন শুভেচ্ছা ব্যানার ব্যবহার করে নির্বাচনী প্রচারণা করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে