জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরধরে একটি পরিবারের ওপর তিন দফায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। নিরাপত্তার অভাবে ভুক্তভোগী ওই পরিবারটি এখন বাড়ি ফিরতে পারছে না। এ ঘটনায় আদালতে মামলা ও থানায় সাধারণ ডায়েরী করা হয়েছে। ঘটনাটি বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার রত্নপুর ইউনিয়নের চাউকাঠী গ্রামের। মামলা ও ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগে জানা গেছে, ওই গ্রামের বেল্লাল হোসেন ও জহিরুল হাওলাদারের সাথে দীর্ঘদিন থেকে বাড়ির জায়গা নিয়ে বিরোধ চলে আসছে একই বাড়ির আব্দুর রহিম, খলিলুর রহমান ও জাকির মৃধার। যৌথ বাড়ির যাতায়াতের পথ ও ঘাটলা নিয়ে বাগবিতন্ডার একপর্যায়ে গত বুধবার রহিম মৃধার নেতৃত্বে ৭/৮ জনের একটি দল হামলা চালিয়ে প্রতিপক্ষ বেল্লাল হাওলাদারের স্ত্রী সুখী বেগম, ছেলে চতুর্থ শ্রেনীর ছাত্র শাওন হাওলাদার, ভাই প্রবাসী জহিরুল ইসলামের স্ত্রী পারুল বেগম, মেয়ে চতুর্থ শ্রেনীর ছাত্রী ফাজিয়া আক্তারকে পিটিয়ে আহত করে। সূত্রে আরও জানা গেছে, স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় পারুল বেগম বাদি হয়ে বরিশাল আদালতে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি আগৈলঝাড়া থানায় আসলে তদন্তের জন্য ২৫ মার্চ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন থানার এসআই ওমর ফারুক। তদন্তের সময় মামলার বাদি পারুল বেগমের ছেলে দশম শ্রেনীর ছাত্র স্বাধীন হাওলাদার ঘটনাটি ভিডিও করার অভিযোগে খলিল মৃধার ছেলে রাজু মৃধার নেতৃত্বে ৩/৪ জনে হামলা চালিয়ে স্বাধীনকে পিটিয়ে গুরুত্বর আহত করে। তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় স্বাধীনের মা পারুল বেগম আগৈলঝাড়ায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেন। পরবর্তীতে থানার এসআই মামুন ঘটনাস্থলে হামলাকারীদের খুঁজে না পেয়ে ফিরে আসেন। পুলিশ চলে আসার পর হামলাকারীরা পুনরায় বেল্লাল ও জহিরুল হাওলাদারের পরিবারের ওপর হামলা করে। হামলাকারীরা প্রভাবশালী হাওয়ায় আতঙ্কে বেল্লাল ও তার ভাই প্রবাসী জহিরুলের স্ত্রী, সন্তানরা নিরাপত্তার অভাবে বাড়ি ফিরতে পারছে না। এব্যাপারে অভিযুক্ত জাকির মৃধা প্রতিপক্ষের ওপর একাধিকবার হামলার ঘটনা আস্বীকার করে বলেন, পারুলের ছেলে স্বাধীন হাওলাদার মহিলাদের ভিডিও ধারনের সময় স্থানীয়দের হাতে ধরা পরে। একারনে তারা আমাদের নামে মিথ্যা অভিযোগ দিচ্ছে। আগৈলঝাড়া থানার এসআই ওমর ফারুক বলেন, আদালতের মামলাটির তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষে আদালতে রির্পোট প্রেরন করা হবে।