পিরোজপুরের জিয়ানগরে মোঃ মিজান হাওলাদার নামের এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে জনগণের চলাচলের জন্য দেওয়া বরাদ্দকৃত সরকারী ইট দিয়ে নিজের বাড়ির রাস্তা তৈরীর অভিযোগ পাওয়া গেছে। অনিয়মের অভিযোগের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিলন তালুকদার। রবিবার সরেজমিনে গেলে ইউপি সদস্যের এ জালিয়াতি চোখে ধরা পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সরকারি টাকার ইট দিয়ে মেম্বর কিভাবে তার নিজের বাড়ির রাস্তা নির্মাণ করেন তা আমরা বুঝিনা। তিনি যেটা করেছেন সেটা সরাসরি অনিয়ম ও দুর্নীতি। মো. মিজান হাওলাদার ৪নং ইন্দুরকানী সদর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড উত্তর কালাইয়া'র বর্তমান ইউপি সদস্য। স্থানীয় এবং অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৪ নং ইন্দুরকানী সদর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড উত্তর কালাইয়া গ্রামের রুস্তম মল্লিক এর বাড়ি হইতে মাসুম হাওলাদারের বাড়ি পর্যন্ত ৩ মে.টন গমের সমপরিমাণ মূল্যের অর্থ দিয়ে ইটসোলিং রাস্তা মাটিসহ কাজ করার কথা ছিল। কিন্তু তিনি ঐ অর্থ দিয়ে চলাচলের জন্য নিজের বাড়ির রাস্তাটি নির্মাণ করেন সম্পূর্ণ অনিয়মের মাধ্যমে। জানা যায়, ২০২৫/২৬ অর্থ বছরের গ্রামীন অব কাঠামো সংস্কার কাবিখা (গম) এর বাজেটে এই রাস্তার কাজটি বরাদ্দ দিয়েছিল উপজেলা পিআইও অফিস থেকে। এ বিষয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিলন তালুকদারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, রাস্তাটির বিষয়ে অভিযোগ পেলে আমরা সরেজমিনে গিয়ে অনিয়মের চিত্র দেখতে পাই এবং সাথে সাথে ইউপি সদস্য ও প্রকল্প সভাপতি মিজান হাওলাদারের বিরুদ্ধে নোটিশ জারি করি। তাকে আগামী তিন কর্ম দিবসের মধ্যে নোটিসের জবাব দিতে বলা হয়েছে। তার অনিয়মের বিরুদ্ধে কেন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না সে বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য মিজান হাওলাদার কে একাধিকবার ফোন দিলে তাকে পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাসান মো. হাফিজুর রহমান জানান, উপজেলার সকল কাজের বিষয়ে আমরা প্রশাসন জিরো টলারেন্স নিতিতে বিশ্বাস করি। ইউপি সদস্য কাজ নিয়ে নয় ছয় করেছেন যেটা কোনভাবেই কাম্য ছিল না। কাজের বিষয়ে তার কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে লিখিত আকারে। আমরা লিখিত জবাব হাতে পাওয়ার পরে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।