মুলতবি প্রস্তাব ঘিরে উত্তপ্ত সংসদ, নোটিশ ‘বৈধ নয়’ বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ২৯ মার্চ, ২০২৬, ১০:৫৯ পিএম
মুলতবি প্রস্তাব ঘিরে উত্তপ্ত সংসদ, নোটিশ ‘বৈধ নয়’ বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সংসদে জুলাই জাতীয় সনদ ও সংবিধান সংস্কার নিয়ে উত্থাপিত মুলতবি প্রস্তাবকে ঘিরে রোববার (২৯ মার্চ) উত্তপ্ত হয়ে ওঠে জাতীয় সংসদ। বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের দেওয়া নোটিশকে ‘বিধিবহির্ভূত’ দাবি করে এর কড়া সমালোচনা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, সংসদ কি আবার ‘আগের কালচারে’ ফিরে যাচ্ছে কিনা।

অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা অবশ্যই হতে পারে, তবে তা হতে হবে সংসদীয় বিধি মেনে। তার ভাষায়, “নোটিশ দেওয়ার যে প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে, তা বিধিসম্মত নয়। নোটিশটাই তো বৈধ হয়নি।” তিনি জানান, রুল ৬২ অনুযায়ী মুলতবি প্রস্তাব আনতে হলে নির্দিষ্ট কাঠামো মানতে হয়, আর জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে গেলে রুল ৬৮ প্রযোজ্য।

এর আগে বিরোধীদলীয় নেতা একই বিষয়ে কথা তুললে তাকে নোটিশ দিতে বলা হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কিন্তু এ ধরনের প্রস্তাব আনতে হলে নিয়ম মেনে আসতে হবে।” তার মতে, বর্তমান নোটিশে কারিগরি ত্রুটি রয়েছে এবং তা সংশোধন না করে আলোচনা এগোনো ঠিক হবে না।

সংসদে এই নোটিশ ঘিরেই শুরু হয় হট্টগোল। বিরোধী ও সরকারি দলের সদস্যরা একসঙ্গে কথা বলার জন্য দাঁড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বারবার শৃঙ্খলা ফেরানোর চেষ্টা করলেও তাতে খুব একটা সাড়া মেলেনি। এক পর্যায়ে বিরোধী সদস্যরা মাইক ছাড়াই বক্তব্য দিতে থাকেন এবং স্পিকারের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

বিরোধীদলীয় নেতা তার প্রস্তাবে বলেন, “জুলাই জাতীয় সনদ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বানের বিধান থাকলেও এখনো তা করা হয়নি। জাতির প্রত্যাশাকে পাশ কাটিয়ে এই অচলাবস্থা চলতে পারে না।” তিনি এই বিষয়টি জনগুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে সংসদে আলোচনার দাবি জানান।

তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যুক্তি দেন, সংবিধান সংশোধনের মতো বিষয় মুলতবি প্রস্তাবের আওতায় আনা যায় না। তিনি বলেন, “বিধি ৬৩ অনুযায়ী এমন কোনো বিষয় আনা যাবে না, যার সমাধান আইন প্রণয়নের মাধ্যমে করতে হয়। সংবিধান সংশোধন তো আইন প্রণয়নের মাধ্যমেই হবে।”

একই সঙ্গে তিনি একটি সমঝোতামূলক প্রস্তাবও দেন। সরকারের ও বিরোধী দলের সদস্যদের নিয়ে সংসদে একটি সংবিধান সংস্কার কমিটি গঠনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আমরা চাই সর্বসম্মতভাবে সংবিধান সংশোধন হোক। এমন একটি দলিল তৈরি করতে চাই, যা দীর্ঘদিন দেশের কাজে লাগবে।”

আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামানও আলোচনায় অংশ নিয়ে বলেন, “আমরাও চাই জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন হোক। আমরা সেই পথেই এগোচ্ছি।” তবে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, তাদের কথা বলার সুযোগ যথাযথভাবে দেওয়া হচ্ছে না।

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, “আজ বিরোধীদলীয় নেতা মুলতবি প্রস্তাব পেশ করেছেন। সে অনুযায়ী আমাদেরও কথা বলার সুযোগ থাকা উচিত।” তিনি আরও বলেন, “আমরা সংবিধান সংশোধনের জন্য আসিনি, সংবিধান সংস্কারের জন্য এসেছি।”

পুরো ঘটনায় সংসদে বিধি মানা ও না মানা নিয়ে তর্ক-বিতর্কের পাশাপাশি রাজনৈতিক উত্তাপও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত মুলতবি প্রস্তাবের বৈধতা ও প্রক্রিয়া নিয়েই আলোচনা সীমাবদ্ধ থাকে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে