নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার ইসবপুর ইউনিয়নের বিখ্যাত বাদাল মাঠে সম্প্রতি হঠাৎ বয়ে যাওয়া চৈত্র মাসের কালবৈশাখী ঝড়ে ল-ভ- হয়ে গেছে কৃষক মো. আবুল কালামের ৫ বিঘা জমির বিশাল কলাবাগান। প্রকৃতির এই আকস্মিক তা-বে তিল তিল করে গড়ে তোলা কয়েক লক্ষ টাকার ফসল চোখের সামনে মাটির সাথে মিশে যাওয়ায় এখন শুধুই হাহাকার করছেন এই প্রান্তিক কৃষক। সরেজমিনে বাদাল মাঠে গিয়ে দেখা যায়, গত সপ্তাহে প্রাকৃতিক দুর্যোগে মাঠের পর মাঠ কলার গাছ উপড়ে ও ভেঙে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। প্রতিটি গাছে বড় বড় কলার কাঁদি এসেছিল, যা আর মাত্র কয়েক দিন পরেই বাজারে বিক্রির উপযুক্ত হতো। ক্ষতিগ্রস্ত ভুক্তভোগী কৃষক পূর্ব চাঁদপুর গ্রামের মৃত মোহাম্মদ সরদারের ছেলে আবুল কালাম মিডিয়াকর্মীদের দেশে কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং বলেন, ‘বাবার মৃত্যুর পর অনেক কষ্টে সংসারের ভার কাধে নিয়েছি, চড়া সুদে ধার-দেনা করে আর নিজের হাড়ভাঙা খাটুনিতে এই ৫ বিঘা কলার চাষ করেছিলাম, ভেবেছিলাম এবার ভাল ফসল বিক্রয় করে সব ঋণদেনা শোধ করে পরিবারের মুখে হাসি ফুটাবো। কিন্তু এক রাতের ঝড় আমার সব স্বপ্ন শ্মশান বানিয়ে দিল ঘুর্ণিঝড়। এখন পাওনাদারদের টাকা দেবো কীভাবে আর মা-সন্তান নিয়ে খাবো কি।” স্থানীয়রা জানান, বাতাসের তীব্রতায় পুরো বাগানটি ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় কৃষক আবুল কালামের অপূরণীয় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বর্তমানে তিনি ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে সম্পূর্ণ দিশেহারা হয়ে পড়েছেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রশান্ত চক্রবর্তী, বলেন আমি ইতিমধ্যেই বাদাল মাঠসহ ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত বেশ কিছু এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি। প্রাকৃতিক দুর্যোগে কৃষকের এই অপূরণীয় ক্ষতি অত্যন্ত দুঃখজনক। জেলা প্রশাসনের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা যাচাই করে নিয়ম অনুযায়ী দ্রুত সরকারি অনুদান ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা বরাদ্দ সাপেক্ষে প্রদান করা হবে।’