শেরপুরে ডিজেল সংকট, ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা

এফএনএস প্রতিবেদক: | প্রকাশ: ৩১ মার্চ, ২০২৬, ০২:১১ পিএম
শেরপুরে ডিজেল সংকট, ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা

ধান উৎপাদনে দেশের অন্যতম উদ্বৃত্ত জেলা শেরপুর। কিন্তু চলতি বোরো মৌসুমে ডিজেল সংকটে সেচ কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। জেলায় অধিকাংশ সেচ যন্ত্রই ডিজেলচালিত হওয়ায় জ্বালানির অভাবে সময়মতো জমিতে পানি দিতে পারছেন না কৃষকরা। এতে ধানখেত শুকিয়ে যাচ্ছে। সম্ভাব্য ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কায় চরম উদ্বেগে দিন কাটছে কৃষকদের।

জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, শেরপুরে এবার ৯১ হাজার ৯৪৯ হেক্টর জমিতে কৃষকরা বোরো ধানের আবাদ করেছেন। এর মধ্যে ৪০ হাজার ৯৯০ হেক্টর জমির সেচ নির্ভর করছে ডিজেলচালিত ইঞ্জিনের ওপর। জেলায় মোট ৩২ হাজার ৪০টি সেচ যন্ত্রের মধ্যে ১৮ হাজার ৮৯০টিই ডিজেলচালিত। এসব যন্ত্র সচল রাখতে প্রতিদিন প্রায় পৌনে ১ লাখ লিটার ডিজেলের প্রয়োজন হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক ডিজেল সংকটে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় অনেক জমিতে পানি পৌঁছাচ্ছে না। সময়মতো পানি না পাওয়ার কারণে ধানের চারা নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এতে সম্ভাব্য ক্ষতি নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা।

সদরের কামারেরচর এলাকার কৃষক রহিম মিয়া বলেন, আমাদের এলাকায় বেশির ভাগ সেচই ডিজেল ইঞ্জিনের মাধ্যমে করতে হয়। কিন্তু এখন ডিজেল না পাওয়ায় ঠিকমতো জমিতে পানি দিতে পারছি না। প্রতিদিন সেচের জন্য ডিজেল দরকার, কিন্তু বাজারে সংকট চলছে। অনেক সময় লাইনে দাঁড়িয়েও ডিজেল পাই না। সময়মতো পানি না দিতে ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে।

জেলা কৃষি বিভাগের উপপরিচালক মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বিষয়টি আমরা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত ডিজেল সরবরাহ স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। ইতোমধ্যে অনেক জায়গায় তেল সঠিকভাবেই পাচ্ছে। পাশাপাশি যেখানে সম্ভব, বিদ্যুৎচালিত সেচব্যবস্থার ব্যবহার বাড়ানোর জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, কয়েকদিন ধরে হালকা বৃষ্টির ফলে জেলার প্রায় বেশির ভাগ ধানখেতে পানি রয়েছে। ফলে পানির জন্য ধানের ক্ষতি হবে না। তারপরও আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে কৃষকরা যেন ডিজেল পায়, সে ব্যবস্থা করব।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে