শ্রীমঙ্গলে পতিত জমিতে ভুট্টা চাষে সাফল্য

এফএনএস (আতাউর রহমান কাজল; শ্রীমঙ্গল, মৌলভী বাজার) : | প্রকাশ: ৩১ মার্চ, ২০২৬, ০২:৩৩ পিএম
শ্রীমঙ্গলে পতিত জমিতে ভুট্টা চাষে সাফল্য

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় কৃষকদের উদ্বুদ্ধকরণ, প্রশিক্ষণ এবং নিবিড় মাঠ তদারকির মাধ্যমে চলতি রবি মৌসুমে পতিত জমিকে চাষের আওতায় এনে ৩৩ হেক্টর জমিতে ভুট্টার আবাদ করা হয়েছে। কৃষি বিভাগের এই উদ্যোগ স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।

উপজেলা কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ২০টি প্রদর্শনী প্লট স্থাপন করা হয়। প্রতিটি প্লটের আয়তন ৩৩ শতক (১ বিঘা)। এসব প্লটে অংশগ্রহণকারী কৃষকদের উন্নতমানের বীজ, সার, বালাইনাশক ও বীজ শোধক সরবরাহ করা হয়েছে, যাতে তারা আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর ভুট্টা চাষে অভ্যস্ত হয়ে ওঠেন।

উপজেলা কৃষি সমপ্রসারণ কর্মকর্তা উজ্জ্বল সূত্রধর জানান, মৌসুমের শুরুতেই কৃষকদের জন্য একাধিক প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। এসব প্রশিক্ষণে জমি প্রস্তুতকরণ, সুষম সার ব্যবস্থাপনা, সেচ পদ্ধতি, রোগবালাই দমনসহ আধুনিক ভুট্টা চাষের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত ধারণা প্রদান করা হয়। পাশাপাশি উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন করে কৃষকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বজায় রাখছেন এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, ‘পতিত জমিকে উৎপাদনের আওতায় আনতে আমরা সচেতনভাবে কাজ করেছি। ভুট্টা একটি লাভজনক ফসল হওয়ায় প্রদর্শনী প্লটগুলো দেখে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। ভবিষ্যতে এই আবাদ আরও সমপ্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।’

উপজেলার ডেঙ্গারবন গ্রামের সফল কৃষি উদ্যোক্তা আহসান হাবিব জানান, তিনি চলতি মৌসুমে ১৮০ শতক জমিতে ভুট্টা চাষ করেছেন। আগামী এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে ভুট্টা বিক্রি করে প্রায় দেড় লাখ টাকা আয় করার আশা করছেন। তিনি বলেন, ‘কৃষি অফিস থেকে প্রদর্শনী প্লটের জন্য প্রণোদনা ও নিয়মিত পরামর্শ পেয়ে আমি উপকৃত হয়েছি।’

স্থানীয় কৃষকরাও জানিয়েছেন, সরকারি সহায়তা, সময়োপযোগী প্রশিক্ষণ এবং কৃষি কর্মকর্তাদের নিয়মিত তদারকির কারণে ভুট্টা চাষ এখন তাদের কাছে সহজ ও লাভজনক হয়ে উঠছে। অনেকেই ইতোমধ্যে নতুন করে পতিত জমিতে ভুট্টা আবাদে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

কৃষি বিভাগ মনে করছে, এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে শ্রীমঙ্গলে ভুট্টা চাষের পরিধি আরও বিস্তৃত হবে। এতে একদিকে যেমন কৃষকদের আয় বৃদ্ধি পাবে, অন্যদিকে দেশের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এই উদ্যোগ।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে