মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় জমিজমা সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জেরে এক বীর মুক্তিযোদ্ধাকে হামলা চালিয়ে তাঁর হাত-পা ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
আহত মুক্তিযোদ্ধার নাম অহিদুজ্জামান (নাইম) (৭২)। তিনি উপজেলার বালুয়াকান্দী ইউনিয়নের বালুয়াকান্দী গ্রামের বাসিন্দা এবং মৃত আব্দুর রাজ্জাক মাস্টারের ছেলে।
আজ মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন জিস্ট পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা যায়, জমির মাপজোখ সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে স্থানীয় নাসিমুল ও মনির হোসেনের সঙ্গে অহিদুজ্জামান নাইমের সালিশ চলছিল। একপর্যায়ে তিনি একা মহাসড়কের পাশে গেলে গজারিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ সম্পাদক ও দনিয়া কলেজ ছাত্রলীগের সহ সভাপতি তুহিন প্রধানের নেতৃত্বে ১০-১২ জনের একটি দল তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় তাঁকে রড দিয়ে পিটিয়ে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, তুহিনের বাবা খোকন প্রধানের সঙ্গে জমি নিয়ে আগে থেকেই বিরোধ ছিল আহত মুক্তিযোদ্ধার।
পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক শারমীন সুলতানা বলেন, আহতের অবস্থা গুরুতর ও সংকটাপন্ন হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাঁকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তাঁর একটি হাত ও একটি পা ভেঙে গেছে এবং মাথার পেছনে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে।
আহত মুক্তিযোদ্ধা অহিদুজ্জামান নাইম বলেন, ‘সালিশ থেকে বের হওয়ার পর তুহিন ও তাঁর সহযোগীরা আমাকে ঘিরে ফেলে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে।’
অভিযুক্ত তুহিনের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হাসান আলী বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।