হাফেজ মঈন উদ্দিনকে নির্যাতন করে হত্যার পর আত্মহত্যার অপপ্রচারের অভিযোগ

এফএনএস (মোঃ হাবিবুর রহমান খান; কুমিল্লা) : | প্রকাশ: ৩১ মার্চ, ২০২৬, ০৫:৫৭ পিএম
হাফেজ মঈন উদ্দিনকে নির্যাতন করে হত্যার পর আত্মহত্যার অপপ্রচারের অভিযোগ

মিথ্যা চুরির অপবাদ দিয়ে আমার সন্তান হাফেজ মঈন উদ্দিনকে অমানসিক নির্যাতন ও মারধর করে হত্যা করে লাশটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য দড়ির সাহায্যে বেঁধে রেলিং এর সাথে ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যার অপপ্রচার চালায় বলে অভিযোগ করেন নিহতের মা সুফিয়া খাতুন। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুরে কুমিল্লা প্রেসক্লাবে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন তিনি। নিহত হাফেজ ঈমন উদ্দিন কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার বড় ধর্মপুর ৭নং বারাপাড়া এলাকার মো: ইয়াসিন মিয়ার পুত্র।

সাংবাদিক সম্মেলনে নিহতের মা সুফিয়া খাতুন আরও বলেন- আমারর পুত্র সদর দক্ষিণ লালমাই উপজেলার বাগমারা এলাকার আল মোকাররম দারুল উলুম মাদ্রাসার হাফেজ শ্রেণীতে লেখাপড়া করত এবং ওই মাদ্রাসার মসজিদের তারাবির নামাজে ইমামতি করতেন। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ভোর সাড়ে ৬ টার দিকে হাফেজ মঈন উদ্দিনকে মাওলানা মাজহারুল ইসলাম (৩৫) হাফেজ নাজমুল হাসান ডেকে নিয়ে

মিথ্যা চুরির অপবাদ দিয়ে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে। তারা আমার সন্তানকে ডেকে নিয়ে ব্যাপক মারধর করে হত্যা করে। পরবর্তীতে আমার সন্তান হাফেজ মইনুদ্দিনের লাশটিকে একটি দঁড়ির সাহায্যে বেধে সিঁড়ির রেলিং এর সাথে ঝুলিয়ে রাখে এবং অপপ্রচার করে হাফেজ মঈন উদ্দিন গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।

তিনি আরও বলেন -খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পাই আমার পুত্রের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত চিহ্ন রয়েছে এবং লাশটিকে একটি সিঁড়ির রেলিং এর সাথে দড়ি দিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। এ অবস্থায় পুলিশকে খবর দিয়ে লালমাই থানা পুলিশ একটি ইউডি মামলা করে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে। মাঈন উদ্দিনের মা সুফিয়া খাতুন লালমাই থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করতে গেলে পুলিশ মামলাটি গ্রহণ করেনি। পরবর্তীতে এই ঘটনা বিচারের দাবিতে নিহত মঈন উদ্দিনের মা দুইজনকে আসামি করে কুমিল্লা আদালতে গত ৮ মার্চ ২০২৬ তারিখে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার দন্ডবিধি ৩০২/ ৩৪/১০৯/  ৫০৬ (২) আদালত মামলাটি কুমিল্লা লালমাই থানার অফিসার ইনচার্জ কে তদন্ত করে রিপোর্ট দেওয়া নির্দেশ দেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে