মানবন্ধন,ইজারা বাতিলের দাবি

চাটমোহরের সমাজ শাহী মসজিদের পুকুর ইজারা নিয়ে তুলকালাম

এফএনএস (হেলালুর রহমান জুয়েল; চাটমোহর, পাবনা) :
| আপডেট: ৩১ মার্চ, ২০২৬, ০৬:০৭ পিএম | প্রকাশ: ৩১ মার্চ, ২০২৬, ০৬:০৬ পিএম
চাটমোহরের সমাজ শাহী মসজিদের পুকুর ইজারা নিয়ে তুলকালাম

পাবনার চাটমোহর উপজেলার ওয়াক্ফ এস্টেটের আওতাধীন সমাজ শাহী মসজিদের বিশাল পুকুর ইজারাকে কেন্দ্র করে তুলকালাম কান্ড ঘটেছে। সোমবার (৩০ মার্চ) সমাজ শাহী মসজিদ চত্বরে প্রকাশ্যে এই পুকুরের ইজারা দেওয়ার জন্য ডাক অনুষ্ঠিত হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ইজারা কার্যক্রম শেষ হয়। এসময় এলাকার একটি পক্ষ এসে দাবি করে,তারা এই ডাকের বিষয়ে জানে না। পুনরায় ডাকের ব্যবস্থা করতে হবে। কিন্তু সেখানে দায়িত্বে থাকা নিমাইচড়া ইউনিয়নের প্রশাসক ও উপজেলা পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের কর্মকর্তা খলিলুর রহমান জানান,ডাকের জন্য নির্ধারিত সময় শেষ হয়েছে। ডাকে অংশ নিয়ে একজন সর্বোচ্চ ৬৭ লাখ টাকা ইজারা মূল্যে ডেকেছেন। এসময় হট্টগোল শুরু হয়। ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রষের চেষ্টা করে। এসময় কতিপয় ব্যক্তি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করাসহ কাগজপত্র ছিনিয়ে নেয় বলে ইউপি প্রশাসক অভিযোগ করেন। ডাকে অংশ নিতে না পারায় এলাকার একটি অংশ পুণরায় ডাকের দাবি জানিয়ে বলেছেন,প্রশাসন গোপনে এই ডাকের আয়োজন করে। পূর্ব থেকেই একজনকে ইজারা দেওয়ার জন্য গোপন চুক্তি হয়। নিমাইচড়া ইউনিয়নের প্রশাসক খলিলুর রহমান অবৈধ সুযোগ নিয়ে গোপন বৈঠক শেষে এক তরফাভাবে ডাকের কাজ সম্পন্ন করেন। বিষয়টি মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় আলোচনা করা হয়।

এদিকে এই ডাকের প্রতিবাদে ইজারা বাতিলের দাবিতে,মসজিদ কমিটির অনিয়ম ও দূর্নীতির প্রতিবাদে এবং নিমাইচড়া ইউনিয়নের প্রশাসক খলিলুর রহমানের অপসারণ দাবিতে  মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুরে সমাজ শাহী মসজিদ প্রাঙ্গণে সমাবেশ ও মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী। নিমাইচড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব আবুল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য দেন,আলহাজ্ব কে এম আকতারুজ্জামান,নিমাইচড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব রাশিদুল ইসলাম হেলাল,মসজিদ কমিটির সাবেক সদস্য কামাল হোসেন বিপ্লব  বিএনপি নেতা খন্দকার ফরহাদ আহমেদ রাজু,খন্দকার সাহাবুদ্দিন সাজু,আবু বকর প্রাং,আলহাজ্ব আনসার আলী প্রাং প্রমুখ।

বক্তারা অভিযোগ করেন কোন প্রকার নিয়মনীতি না মেনে জামায়াতের নেতাদের সাথে যোগসাজসে অবৈধ সুবিধা নিয়ে নিমাইচড়া ইউনিয়নের প্রশাসক ও পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের কর্মকর্তা খলিলুর রহমান গোপন বৈঠক করে এই ইজারা ডাকের কাজ করেন। তারা এই ইজারা বাতিল করাসহ ইউনিয়নের প্রশাসক খলিলুর রহমানের অপসারণসহ মসজিদ কমিটি বাতিলের দাবি জানান। 

এ বিষয়ে ইউনিয়নের প্রশাসক খলিলুর রহমান জানান,কোন অনিয়ম করা হয়নি। নিয়ম ও বিধি মোতাবেক প্রকাশ্যে ইজারার জন্য ডাকের কাজ করা হয়েছে। আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ সত্য নয়। কতিপয় ব্যক্তি ইজারার কাগজপত্র ছিনিয়ে নিয়েছে।

চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুসা নাসের চৌধুরী বলেন,ডাকের জন্য সময় নির্ধারিত ছিল। এই সময়ের মধ্যে মাত্র ২জন অংশ নেন। ইজারা কার্যক্রম শেষ হলে কতিপয় ব্যক্তি এসে হট্টগোল শুরু করেন। শুনছি তারা নাকি মসজিদ কমিটির বিরুদ্ধে মানববন্ধন করছে। মসজিদ কমিটি এখানে জড়িত না। তাছাড়া কোন অনিয়ম করা হয়েছে বলে আমার কাছে কোন অভিযোগ নেই। এটা দুটি পক্ষের মধ্যে সমস্যা। 

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে