ভোলা জেলার কোস্টগার্ডের কতিপয় সদস্যর বিরুদ্ধে বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার শ্রীপুর এবং শরীয়তপুরের গোসাইরহাট এলাকা থেকে জেলেদের বিভিন্ন প্রজাতের মাছ জোরপূর্বক লুট করে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযানের সময় জেলেদের সাথে এলাকাবাসীজড়ো হয়ে কোস্টগার্ডের সদস্যদের মাছ লুটের প্রতিবাদ করায় তাদের গুলি করার হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় ভূক্তভোগী জেলেরা পৃথকভাবে উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তবে কোস্টগার্ডের এ অভিযান সম্পর্কে মৎস্য অধিদপ্তরের কোন কর্মকর্তারা কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছেন। বরিশালের হিজলা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বরাবরে উপজেলার ধুলখোলা গ্রামের মেঘনার শাখা নদীর পাড়ের মাছ ঘাটের ব্যবসায়ী সালাউদ্দিন মাঝি, জামাল গাজী, আব্দুল হক চৌকিদার, ছাত্তার দপ্তরী, রহমান সরদার, কবির রাঢ়ী, মামুন মাঝি, জসিম তালুকদার, মাসুম সরদার, জসিম সরদার লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, তারা দীর্ঘদিন যাবৎ ব্যবসা বাণিজ্য পরিচালনা করে আসছেন। মেঘনার অভয়াশ্রম এরিয়া ব্যতিত চর দূর্গাপুর লঞ্চঘাট সংলগ্ন নদীর মাঝে গত ৯ মার্চ রাত সাড়ে নয়টার দিকে তিনটি স্পীডবোট দিয়ে তাদের একটি ইঞ্জিন চালিত কাঠবডি ট্রলার ঘিরে ধরেন ভোলা জেলা থেকে আসা কোস্টগার্ডের সদস্যরা। তারা (কোস্টগার্ড) কোনো নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, মৎস্য অফিসার কিংবা তাদের প্রতিনিধির উপস্থিতি ছাড়াই অন্যায়ভাবে ট্রলারে থাকা প্রায় ২৫ লাখ টাকা মূল্যের ১৮টি ব্যারেলে বৈধ পোয়া, ইলিশ, আইড়, চিংড়ি মাছসহ বিভিন্ন দেশীয় প্রজাতীর মাছ ডাকাতের মতো লুটপাট করে নিয়ে যায়। অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়, বরিশালের কোস্টগার্ড ব্যতীত ভোলা থেকে আসা কোস্টগার্ডের সদস্যদের অভিযান অন্যায় ও মাছ লুটের প্রতিবাদ করায় কোস্টগার্ডের সদস্যরা ট্রলারে থাকা তাদের কর্মচারী আরিফ সরদার, ফয়সাল, হাশেম, আনোয়ার, লিটন, ড্যানি, মাইদুলসহ ১০ জনকে মারধর করে একটি ট্রলারসহ তাদের জোরপূর্বক আটক করে নিয়ে যায়। অপরদিকে বরিশালের সীমান্তবর্তী শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে গোসাইরহাটের কোদালপুর গ্রামের বাসিন্দা ও মৎস্য ব্যবসায়ী মো. সুরুজ, সবুজ বেপারী, বাবুল হাওলাদার, দাদন মীরের দায়ের করা অভিযোগে জানা গেছে, তারা দীর্ঘদিন থেকে মাছের ব্যবসা করে আসছেন। অতিসম্প্রতি ভোলা জেলার কোস্টগার্ড দপ্তর থেকে কতিপয় সদস্যরা একাধিকবার গোসাইরহাট উপজেলার মেঘনা নদীতে তাদের ব্যবসায়িক মাছ পরিবহনের সময় অর্তকিতভাবে হামলা চালিয়ে মাছ লুট করে নিয়ে যায়। সর্বশেষ গত ৪ মার্চ বেলা ১১ টার দিকে মাছ ব্যবসায়ীদের বৈধ ইলিশ, চিংড়ি, আইড়, পাঙ্গাস ও পোয়া মাছ পরিবহন করে কোদালপুর ঘাটের দিকে আসছিলেন। পথিমধ্যে খেজুরতলা কুচাইপট্টি নামকস্থানে তিনটি স্পীডবোর্ডে কতিপয় কোস্টগার্ডের সদস্যরা তাদের ট্রলারটিকে আক্রমন করে। এসময় ট্রলারে কোন অবৈধ জাটকা ইলিশ নেই বলা সত্বেও কোস্টগার্ডের সদস্যরা ব্যবসায়ীদের কথা না শুনে তরিঘড়ি করে মাছগুলো তাদের স্পীডবোর্ডে তুলে চাঁদপুরের দিকে রওনা দেয়। এসময়কার একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, কোস্টগার্ডের এ অভিযানের সময় কোন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কিংবা উপজেলা মৎস্য দপ্তরের কোন কর্মকর্তা কিংবা প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না। ভিডিওতে আরো দেখা গেছে, ব্যবসায়ীদের সাথে এলাকাবাসী জড়ো হয়ে কোস্টগার্ডের মাছ লুটের প্রতিবাদ করায় গুলি করার হুমকি দেওয়া হয়। লিখিত অভিযোগে মৎস্য ব্যবসায়ীরা উল্লেখ করেন, কোস্টগার্ডের ওইসব কতিপয় অসাধু সদস্যদের কারণে তারা বৈধ ব্যবসা পরিচালনা করতে পারছেন না। এমতাবস্থায় তারা (ব্যবসায়ী) যদি অবৈধ মাছ পরিবহন করে থাকেন তাহলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে যেকোন ধরনের ব্যবস্থা মাথা পেতে নিতে রাজি আছেন।তারপরেও কোস্টগার্ডের কতিপয় অসাধু সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তারা অনুরোধ জানিয়েছেন। একইসাথে নির্বাহী ম্যাজিস্টেট, উপজেলা মৎস্য দপ্তরের কর্মকর্তা কিংবা প্রতিনিধি ছাড়া যেন কেউ অভিযান পরিচলানা করতে না পারে সেই ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন। সূত্রমতে, মৎস্য ব্যবসায়ীদের উল্লেখিত অভিযোগের অনুলিপি কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক, জেলা প্রশাসক, জেলা পুলিশ সুপার, পুলিশ সুপার, নৌ-পুলিশ, জেলা মৎস্য অফিসার, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের দেওয়া হয়েছে। মৎস্য ব্যবসায়ীদের লিখিত অভিযোগ প্রাপ্তির সত্যতা স্বীকার করে হিজলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইলিয়াস সিকদার বলেছেন, অভিযোগের কপি কোস্টগার্ডের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে প্রেরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি এ ঘটনায় তদন্ত শুরু করা হয়েছে। কোস্টগার্ডের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে এ বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে অভিযোগের তদন্ত করে মাছ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক মাছ লুটের কোন ঘটনা ঘটলে এবং এর সাথে যেসব সদস্যর জড়িত থাকার প্রমান পাওয়া যাবে তাদের বিরুদ্ধে নিয়মানুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।