পাবনার চাটমোহর উপজেলার আটলংকা দ্বিমুখি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে লঞ্ছিত ও অফিস কক্ষ ভাঙ্চুরের ঘটনা ঘটেছে। গত সোমবার (৩০ মার্চ) সাবেক সভাপতি ঈমান আলী বিশ্বাস,আসাদুজ্জামানসহ ২০/২৫ জন ব্যক্তি প্রধান শিক্ষকের কক্ষে ঢুকে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়াসহ তাঁকে লাঞ্ছিত করে এবং ভাঙ্চুর চালায়। এসময় আতঙ্কে শিক্ষার্থী ছোটাছুটি করতে থাকে। এলাকাবাসী এগিয়ে এলে তারা চলে যায়।
এদিকে স্বনপ্রীতির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ,স্কুলে হামলা ও ভাঙ্চুর এবং প্রধান শিক্ষককে লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা করেছেন এলাকাবাসী। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকালে স্কুলের শিক্ষক-কর্মচারি ও এলাকাবাসী এই কর্মসূচি পালন করেন। সকালে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে আটলংকা বাজার প্রদক্ষিণ করে। পরে আটলংকা হাইস্কুল চত্বরে অনুষ্ঠিত হয় প্রতিবাদ সভা। বক্তব্য দেন,মূলগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম লিখন বিশ্বাস,ইউপি সদস্য ও বিএনপি নেতা আঃ কুদ্দুস রেজা,শ্রমিক দলের উপজেলা সভাপতি মোন্তাজ আহমেদ,প্রভাষক আশরাফুল ইসলাম হারেজ,স্কুলের প্রধান শিক্ষক আঃ মতিন,মিনা পারভীন,আফজাল হোসেন প্রমুখ। বক্তারা এই হামলার নিন্দা জানিয়ে প্রধান শিক্ষলোঞ্ছিত করাসহ হামলা ও ভাঙ্চুরের সাথে জড়িত সাবেক সভাপতি ও তার ছেলেসহ অন্যদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। জানা গেছে,২০১৫ সালে স্কুলের তৎকালীন সভাপতি ঈমান আলী বিশ্বাস অনিয়মের মাধ্যমে তার ছেলে আসাদুজ্জামান,সাবেক প্রধান শিক্ষক আঃ আজিজের স্ত্রী তামান্না ইয়াসমিন,জহুরুল ইসলাম ও শামীমা ইয়াসমিনকে গোপনে অর্থের বিনিময়ে নিয়োগ দেন। পরে শামীমা ও জহুরুল এমপিওভুক্ত হলেও আসাদুজ্জান ও তামান্নার এমপিও আটকে যায়। এনিয়ে প্রধান শিক্ষক আঃ মতিনের উপর চাপ সৃষ্টি করা হয়। তিনি ফাইলে স্বাক্ষর করতে অস্বকিৃতি জানান। এরই জের ধরে প্রধান শিক্ষককে লাঞ্ছিত এবং ভাঙ্চুর করা হয়। এ বিষয়ে কথা বলার জন্য স্কুলের সাবেক সভাপতি ঈমান আলী বিশ্বাসের সাথে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার ছেলে আসাদুজ্জামান বলেন,আমাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ সত্য সত্য নয়। তিনি দাবি করেন,তার এমপওভুক্তি আগেই সমপন্ন হয়েছে। বর্তমান প্রধান শিক্ষক তার কাগজপত্র দাখিল করেছেন। স্কুলের সাবে সভাপতি আশরাফুল ইসলাম হারেজ স্কুল থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করলে সামান্য কথা কাটাকাটি হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুসা নাসের চৌধুরী জানান,অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যস্থা নেওয়া হবে।