কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে দুই দিনে পাঁচ শিশুর হাম সনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে জারা মনি নামে একজন শিশু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে। অপর চারজন চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বাড়িতে আইসোলেশনে রয়েছে। আক্রান্ত পাঁচ শিশুর মধ্যে দুই জনের বয়স ৭ মাস এবং বাকি তিন জনের বয়স ১ থেকে ৫ বছরের মধ্যে বলে জানা গেছে। বৃহস্পতিবার হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে জ্বর, সর্দি-কাশি ও শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দিলে অভিভাবকগণ তাদের শিশু সন্তানদের নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসেন। তাদের স্যাম্পল সংগ্রহ করে ঢাকায় প্রেরণ করা হয়। সেই রিপোর্টে তাদের শরীরে হাম শনাক্ত হয়।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাসপাতালের শিশু বিভাগে একটি বিশেষ আইসোলেশন ওয়ার্ড খোলা হয়েছে। সেখানে আক্রান্তদের আলাদা রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আইসোলেশন ওয়ার্ডে শয্যা, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও জনবল সংকট রয়েছে বলে জানা যায়। হামে আক্রান্ত জারা মনির পিতা জসিম জানান, চারদিন পূর্বে সন্তানের জ্বর হলে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। রিপোর্টে মেয়ের শরীরে হাম শনাক্ত হয়। বর্তমানে চিকিৎসা চলছে এবং তার অবস্থা আগের তুলনায় উন্নতির দিকে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. ঈশা খান বলেন, আক্রান্তদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে এবং সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা বিশেষ করে শূন্য থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের জন্য বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। সময়মতো টিকা গ্রহণ না করলে এ রোগ মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃপঃ কর্মকর্তা ডাঃসৈয়দ মোহাম্মদ শাহরিয়ার অনিক বলেন, সাধারনত নয় মাস বয়স থেকে হামের টিকা দেয়া হয়। তবে সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক রোববার থেকে ছয়মাস থেকে দশ বছর বয়সী শিশুদের হামের টিকা দেয়া হবে। তবে যে সকল শিশু আক্রান্ত হয়েছে তাদেরকে আগে চিকিৎসা নিতে হবে। সুস্থ হলে তাদেরকে টিকা দেয়া হবে। টিকার কোন ঘাটতি নেই।