জনগণের রায়কে অবজ্ঞা ও অস্বীকার করাই ফ্যাসিবাদের সূচনা: জামায়াত আমির

এফএনএস প্রতিবেদক: | প্রকাশ: ৩ এপ্রিল, ২০২৬, ০৫:৫৮ পিএম
জনগণের রায়কে অবজ্ঞা ও অস্বীকার করাই ফ্যাসিবাদের সূচনা: জামায়াত আমির
ছবি, সংগৃহীত

জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান আজ শুক্রবার শুক্রবার বিকালে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে দলীয় সমাবেশে যোগ দিয়ে বললেন, জনগণের রায়কে অবজ্ঞা ও অস্বীকার করাই ফ্যাসিবাদের সূচনা। ফ্যাসিবাদ কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি একটি রোগ, যা একজন থেকে আরেকজনের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। নির্দিষ্ট কেউ মারা গেলেই ফ্যাসিবাদ শেষ হয়ে যায় না, বরং এর সংক্রমণ সমাজে অব্যাহত থাকে যা বর্তমানে লক্ষ করা যাচ্ছে। জনগণের মতামত অগ্রাহ্য করাকেই তিনি ফ্যাসিবাদের সূচনা হিসেবে অভিহিত করেন।

শফিকুর রহমান আরও বলেন, দেশে আর ফ্যাসিবাদ দেখতে চান না। বর্তমান সরকারি দলও একসময় মজলুম ছিল, আমরাও মজলুম ছিলাম গোটা জাতিই একসময় মজলুম অবস্থায় ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, জনগণ ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখ দুটি ভোট দিয়েছে সংসদ নির্বাচন এবং গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট। তার দাবি অনুযায়ী, গণভোটে ৬৮ শতাংশ ভোট পড়েছে, যেখানে সংসদ নির্বাচনে ৫১ শতাংশ ভোটের কথা বলা হচ্ছে। তিনি প্রশ্ন রাখেন, ৬৮ শতাংশের মতামত উপেক্ষা করে ৫১ শতাংশকে গুরুত্ব দেওয়াকে গণতন্ত্র বলা যায় কি না।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি বলছে সংবিধানে গণভোটের বিধান নেই। অথচ তাদের প্রতিষ্ঠাতা নেতৃত্বের সময়ই প্রথম গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তখন সংবিধানে এমন প্রভিশন ছিল কি না এ প্রশ্নও তোলেন তিনি।

সংবিধান প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, সরকার জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। জনগণের অভিপ্রায়ই চূড়ান্ত সংবিধান হওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন। জামায়াতে ইসলামী কোনো কাটাছেঁড়া সংবিধান চায় না উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা অতীতেও আন্দোলনে ছিল, ভবিষ্যতেও জনগণের দাবি আদায়ে মাঠে থাকবে।

জ্বালানি তেল পরিস্থিতি নিয়ে সমালোচনা করে তিনি বলেন, সংসদে এমন বক্তব্য দেওয়া হয় যেন দেশে কোনো সংকট নেই। অথচ বাস্তবে পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইনে মানুষ দাঁড়িয়ে থাকে এবং কোথাও কোথাও বেশি দামে তেল বিক্রি হচ্ছে। সরকার বাস্তব চিত্র আড়াল করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সাবেক ও বর্তমান মজলুমদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, “জুলুমের বিরুদ্ধে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। জনগণের ন্যায্য অধিকার জনগণের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া পর্যন্ত ১১ দল ও জামায়াতে ইসলামী তাদের আন্দোলন চালিয়ে যাবে।”

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে