তারল্য সংকটে থাকা সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের জন্য কিছুটা স্বস্তির খবর দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। চিকিৎসাজনিত জরুরি প্রয়োজনে গ্রাহকরা এখন সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত উত্তোলন করতে পারবেন। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক জরুরি ব্রিফিংয়ে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
তবে এই সুযোগ সীমিত, শুধুমাত্র অসুস্থতার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখিয়ে এই অর্থ তোলা যাবে। এর বেশি অর্থের প্রয়োজন হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি নিতে হবে।
দুর্নীতি ও ঋণখেলাপির কারণে সংকটে পড়া কয়েকটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক একীভূত করে ২০২৫ সালে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়। কিন্তু একীভূত হওয়ার পরও গ্রাহকদের ভোগান্তি কমেনি। অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের জমা টাকা তুলতে পারছেন না।
এই প্রেক্ষাপটে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র শাহরিয়ার সিদ্দিকী বলেন, “কোনো গ্রাহক অসুস্থ থাকলে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখিয়ে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা তুলতে পারবেন। এর বেশি প্রয়োজন হলে বাংলাদেশ ব্যাংকে জানাতে হবে।” তিনি জানান, গ্রাহক সত্যিই অসুস্থ কিনা, তা যাচাই করা হবে এবং এ বিষয়ে ব্যাংকের প্রশাসকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, শুরুতে উত্তোলনের সীমা ২ লাখ টাকা ছিল, যা ধীরে ধীরে বাড়ানো হচ্ছে। “গ্রাহকরা ইতোমধ্যে অনেক ধৈর্য দেখিয়েছেন। সরকার আমানত সহায়তা দিচ্ছে, সেই অনুযায়ী ধাপে ধাপে অর্থ ছাড় করা হচ্ছে,” যোগ করেন তিনি।
তবে বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন চিত্রই তুলে ধরছে। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে শত শত গ্রাহক বিক্ষোভ করেন। দীর্ঘদিন ধরে টাকা তুলতে না পেরে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।
অনেকেই জানান, কারও চিকিৎসার খরচ, কারও মেয়ের বিয়ের সঞ্চয়, আবার কারও সারাজীবনের উপার্জন আটকে আছে ব্যাংকে। মাসের পর মাস ঘুরেও টাকা না পেয়ে শেষ পর্যন্ত তারা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সামনে জড়ো হয়েছেন।
গ্রাহকদের অভিযোগ, লেনদেন স্বাভাবিক না থাকায় তারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। একই সঙ্গে ২০২৪ ও ২০২৫ সালের জন্য আমানতের মুনাফার হার কমানোর সিদ্ধান্তেরও বিরোধিতা করেন তারা।
বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করতে ইতোমধ্যে নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং চেয়ারম্যান নিয়োগও প্রক্রিয়াধীন। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত পেলেই দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সব মিলিয়ে, সীমিত পরিসরে অর্থ উত্তোলনের সুযোগ চালু হলেও গ্রাহকদের আস্থার সংকট এখনও কাটেনি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগের দাবি জোরালো হচ্ছে।