মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় স্থানীয়দের ধাওয়া খেয়ে জবাই করা ১৩টি ঘোড়া ফেলে পালিয়ে গেছে অবৈধ মাংস ব্যবসায়ী একটি চক্র। ঘটনাস্থল থেকে জবাইয়ের জন্য আনা একটি জীবিত ঘোড়াও উদ্ধার করেছেন এলাকাবাসী। বুধবার (৮ এপ্রিল) ভোরে উপজেলার আনারপুরা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন পল্লী বিদ্যুৎ সাব-স্টেশনের পেছনে একটি পরিত্যক্ত ঘর থেকে এসব ঘোড়া উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়দের ধারণা, উদ্ধার হওয়া মিয়াজী জানান, প্রায় ছয় মাস ধরে ওই এলাকায় অস্বাভাবিক কিছু কার্যক্রম লক্ষ্য করা যাচ্ছিল। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় গ্রামবাসী নজরদারি শুরু করেন। বুধবার ভোরে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে চক্রটির সদস্যদের হাতে-নাতে ধরে ফেললেও তিতাস ও রাজিব নামের দুইজনসহ কয়েকজন সেখান থেকে পালিয়ে যায়। আরেক প্রত্যক্ষদর্শী নাজমুল হোসেন বলেন, প্রতি রোববার ও বুধবার গভীর রাতে পরিত্যক্ত ঘরটির সামনে অজ্ঞাত গাড়ি আসতে দেখা যেত। পরে সকালে সেখানে রক্ত ও পশুর হাড় পড়ে থাকতে দেখা যেত। অনুসন্ধানে জানা যায়, চক্রটি ঘোড়া জবাই করে সেই মাংস গরুর মাংস হিসেবে বিভিন্ন হোটেলে সরবরাহ করত। পরে চামড়া, হাড় ও নাড়িভুঁড়ি গর্ত করে পুঁতে ফেলে প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করত তারা। গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হাসান আলী জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে পুলিশের আগেই অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১১ অনুযায়ী ঘোড়া জবাইয়ের কোনো অনুমতি নেই। ঘটনাস্থলে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি বলে তাৎক্ষণিক মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা যায়নি। তবে পুলিশকে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, উদ্ধার হওয়া জবাইকৃত ঘোড়াগুলো প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে মাটিতে পুঁতে ফেলা হবে।