ভোজ্যতেল নিয়ে কারসাজি

জনস্বার্থ রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ জরুরি

এফএনএস
| আপডেট: ৮ এপ্রিল, ২০২৬, ০৩:১১ পিএম | প্রকাশ: ৮ এপ্রিল, ২০২৬, ০৩:১১ পিএম
জনস্বার্থ রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ জরুরি

বাংলাদেশের ভোজ্যতেলের বাজারে অস্বাভাবিকতা যেন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। রমজান মাসে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ পরিকল্পিতভাবে কমিয়ে দেওয়া হয়, আর ঈদের পর সংকট আরও প্রকট হয়। অভিযোগ উঠেছে, বড় কোম্পানিগুলো সরকারকে চাপে ফেলার জন্য সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করছে, যাতে দাম বাড়ানো যায়। আমরা মনে করি, এটি নিছক ব্যবসায়িক অনিয়ম নয়, বরং একটি সুপরিকল্পিত কারসাজি। গুদামে মজুত থাকা আগের কম দামে কেনা তেল হঠাৎ বাজার থেকে উধাও হয়ে যায়- এটি স্পষ্টতই সিন্ডিকেটের খেলা। সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে মুনাফা অর্জনের প্রবণতা জনস্বার্থের পরিপন্থি। সরকারের দায়িত্ব হলো খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা। এজন্য সিন্ডিকেট চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল করা জরুরি। একই সঙ্গে টিসিবির মাধ্যমে সরাসরি আমদানির উদ্যোগ বাড়াতে হবে, যাতে কয়েকটি কোম্পানির ওপর নির্ভরশীলতা কমে। দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোও জরুরি। সূর্যমুখী, সরিষা ও অন্যান্য তেলজাত ফসলের চাষে প্রণোদনা দিলে আমদানির ওপর নির্ভরশীলতা কমবে। দীর্ঘমেয়াদে এটি খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। পাশাপাশি বাজারে স্বচ্ছতা আনতে আমদানিকারক ও সরবরাহকারীদের মজুত তথ্য প্রকাশ বাধ্যতামূলক করতে হবে। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে আরও শক্তিশালী করতে হবে, যাতে তারা নিয়মিত বাজার তদারকি করতে পারে। একই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনকে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে, যাতে খুচরা পর্যায়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি না হয়। বড় কোম্পানির পাশাপাশি ডিলার ও পরিবেশকদেরও নজরদারির আওতায় আনতে হবে। ভোজ্যতেলের বাজারে সিন্ডিকেটের কারসাজি নতুন নয়, কিন্তু প্রতিবারই সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে মুনাফা অর্জন করা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। সরকারের উচিত জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা। সিন্ডিকেটের লাগাম টেনে ধরতে হবে এখনই, অন্যথায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে এবং খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে