মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা

নিম্নমানের হেলমেট ঝুঁকিতে জীবন

এফএনএস | প্রকাশ: ৮ এপ্রিল, ২০২৬, ০৩:১২ পিএম
নিম্নমানের হেলমেট ঝুঁকিতে জীবন

সারা দেশে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় একাধিক মৃত্যুর খবর আসছে প্রায়ই। এসব দুর্ঘটনায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আরোহীর মাথায় হেলমেট থাকলেও তাদের জীবন রক্ষা হচ্ছে না। এর মূল কারণ হচ্ছে মানসম্মত হেলমেট। আমরা হেলমেট পরছি; কিন্তু সেটা নিম্নমানের হেলমেট। জীবন রক্ষা করার জন্য নয়, শুধু পুলিশের মামলা থেকে বাঁচতেই আমরা নামমাত্র হেলমেট ব্যবহার করে সড়কে নামছি। যা সড়ক দুর্ঘটনায় আমাদের মৃত্যুর ঝুঁকিতে রাখছে। সড়ক ও পরিবহন বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী চার চাকার বাহনের তুলনায় মোটরসাইকেলের দুর্ঘটনার ঝুঁকি ৩০ গুণ বেশি। হতাহতের পরিমাণ বাস দুর্ঘটনায় বেশি হলেও দুর্ঘটনার দিকদিয়ে মোটরসাইকেলই এগিয়ে। সড়ক পরিবহন আইন অনুযায়ী, মোটরসাইকেলে যাত্রী থাকলে চালকসহ দু’জনকেই হেলমেট পরতে হবে। এ নিয়ে কড়াকড়ি আরোপের পর মোটরবাইক রাইডারদের অতিরিক্ত হেলমেট বহন করতে দেখা যায়। তবে প্রশ্ন উঠেছে, হেলমেটের মান নিয়ে। দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেতে জীবন রক্ষার জন্য হেলমেট পরায় বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা দাঁড়িয়েছে ‘নিয়মরক্ষার’। বিশেষ করে আরোহীর মাথায় যে হেলমেট, তাতে জীবনের ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে। আরোহীর মাথায় হেলমেট থাকে হালকা এবং নিম্নমানের। এ ধরনের হেলমেট ব্যবহারে উদ্দেশ্য সাধন তো হচ্ছেই না বরং ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে। হেলমেটের নামমাত্র ব্যবহার বা এর সম্পূর্ণ অনুপস্থিতি আমাদের সমষ্টিগত অসতর্কতার ফাঁক প্রকাশ করে। শহরের ভিড় ভরা সড়কে বাইকচালকদের মাথায় যেনতেন হেলমেট দেখলেও জেলা-উপজেলায় এর অদৃশ্যতা রুটিন হয়ে গেছে। সেখানে হেলমেট নিরাপত্তার প্রতীক নয়, বরং অপ্রয়োজনীয় বোঝা হয়ে উঠেছে। কিছুদিন আগেও রাস্তাঘাটে খুব বেশি মোটরসাইকেল দেখা যেত না। কিন্তু সামপ্রতিককালে সড়কে হু হু করে মোটরসাইকেল বেড়ে গেছে। খোদ রাজধানী ঢাকার সড়কের দিকে তাকালে এমনটিই মনে হবে। তবে শুধু রাজধানী নয়, সারাদেশেই মোটরসাইকেল চালানো বেড়ে গেছে। সেই সঙ্গে দুর্ঘটনাও বাড়ছে। তার বাস্তব রূপ দেখা যায়, গত রোজার ঈদে। গত ঈদে ঘরমুখী মানুষ দুই লাখ মোটরসাইকেলে চেপে বসে। গত রোজার ঈদে মোটরসাইকেলে চেপে যারা ঈদ করতে বাড়ি গেছেন এবং ঈদ উদযাপন শেষ করে কর্মস্থলে ফিরেছেন, তাদের মধ্যে অনেকে সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহত হন। প্রশ্ন হলো, একটি রাষ্ট্র কি তার নাগরিকের জীবন রক্ষার মৌলিক উপকরণটি নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হতে পারে? একটি বাজার কি অবাধে এমন প্রতারণা চালাতে পারে, যেখানে জীবন রক্ষার পণ্যই হয়ে ওঠে মুনাফার সবচেয়ে নির্মম হাতিয়ার? সমাধান অবশ্যই আছে, কিন্তু তার জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং প্রাতিষ্ঠানিক দৃঢ়তা। হেলমেটের কারণে দেশে মৃত্যুর যে পরিস্থিতি দাঁড়িয়েছে, তা রোধে সরকারের দায়িত্বশীলরা যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া এখনই জরুরি। হেলমেটের মান যাচাইয়ে সরকারি সংস্থাগুলোর উদ্যোগ নিতে হবে। মানহীন অনিরাপদ হেলমেট ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। বাজারে ভালো হেলমেট নিশ্চিত করতে হবে।