অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজিতে বোতলজাত ভোজ্য তেল বাজার থেকে উধাও এর প্রতিবাদে কনজুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ ( ক্যাব) চাঁদপুর জেলা শাখার আয়োজনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। বুধবার (৮ এপ্রিল) বিকেলে শহরের বাইতুল আমিন চত্তরে জেলা ক্যাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি মুজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং অধ্যাপক মোশারফ হোসেন ও অভিজিৎ রায়ের যৌথ পরিচালনায় মানববন্ধন কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী, চাঁদপুর চেম্বার অব কমার্স এর পরিচালক গোপাল সাহা, মোঃ বিল্পব সরকার, অ্যাডঃ শাহ আলম ফরাজি। এসময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা ক্যাবের সহ সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সানাউলৗা খান, বীর মুক্তিযোদ্ধা দেলোয়ার হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা এস এম সালাউদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোতাহার, বীর মুক্তিযোদ্ধা শামছুুল, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারন সম্পাদক কাদের পলাশ, মোঃ সালাউদ্দিন, জেলা উদীচির সাধারণ সম্পাদক বাবর। এসময় বক্তারা বলেন, আজকে ক্যাব মানববন্ধন করছে অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজির বিরুদ্ধে। অসাধু ব্যবসায়ীরা ১৮ কোটি ভোক্তার সাথে প্রতারনা করতে না পারে তারই প্রতিবাদে এই মানববন্ধন । শহরে ভোজ্য তেলের তীব্র সংকট। গ্রামে ড্রাম ভর্তি তেল রয়েছ। আর এই তেল স্বাস্থসম্মত না। আবার কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সয়াবিনের সাথে ভেজাল তেল মিশ্রন করে ক্রেতার সাথে প্রতারনা করে অধিক মূল্যে বিক্রি করছে।
মানববন্ধন থেকে চাঁদপুর জেলা ক্যাব দশ দফা দাবী উপস্থাপন করে। দাবী সমূহ:
১. ভোজ্যতেল নিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজি কঠোরভাবে দমন করতে হবে এবং বাজারে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
২. নন-ফুড গ্রেড ড্রামে সয়াবিন তেল বিক্রি বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
৩. সয়াবিন তেলের সঙ্গে পাম অয়েল মিশিয়ে প্রতারণামূলক বিক্রি বন্ধ করতে কঠোর নজরদারি ও আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
৪. জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে দোকান মালিকদের সরকারি বিধিবিধান মেনে চলা বাধ্যতামূলক করতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
৫. দোকান, শপিংমল, হোটেল, রেস্তোরাঁ, ওষুধের দোকানসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে দিনের বেলায় অপ্রয়োজনীয় ও অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।
৬. প্রয়োজনাতিরিক্ত বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) ব্যবহার বন্ধসহ এসি ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে হবে।
৭. রাতের বেলায় বাসাবাড়ি, সরকারি ও বেসরকারি দপ্তরে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে হবে।
৮. পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল মজুত রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
৯. ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ইলিশের পোনা (জাটকা) ধরা বন্ধে বিদ্যমান আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
১০. হাম প্রতিরোধে সিভিল সার্জন অফিসসহ সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালসমূহকে আরও সক্রিয় ও কার্যকর ভূমিকা পালনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ