৪২ দিনে গুম-ক্রসফায়ার নেই, মানবাধিকার সুরক্ষায় সরকার কঠোর অবস্থানে: আইনমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ৯ এপ্রিল, ২০২৬, ০৩:৫৯ পিএম
৪২ দিনে গুম-ক্রসফায়ার নেই, মানবাধিকার সুরক্ষায় সরকার কঠোর অবস্থানে: আইনমন্ত্রী

দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ হিসেবে পরিচিত গুম ও ক্রসফায়ারের ঘটনা বন্ধে বর্তমান সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ৪২ দিনে দেশে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (রহিতকরণ ও পুনঃপ্রচলন) বিল, ২০২৬’ উত্থাপনকালে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর আপত্তির জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

আইনমন্ত্রী বলেন, অতীতে দেশে অনেক রাজনৈতিক কর্মী ও তাদের পরিবার দীর্ঘ সময় ধরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হয়েছেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই সরকার এখন ভিন্ন পথে হাঁটছে। তার ভাষায়, “সরকার চাইলে প্রতিহিংসার রাজনীতি করতে পারত, কিন্তু আমরা সেই পথে হাঁটিনি। আমরা চাই না আর কোনো মা তার সন্তানকে ক্রসফায়ারের নামে হারান কিংবা গুমের শিকার হন।”

তিনি আরও জানান, দেশে মানবাধিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং এ ধরনের গুরুতর লঙ্ঘন বন্ধে কার্যকর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। মানবাধিকার কমিশনের কার্যক্রম সচল রাখতে ২০২৫ সালের অধ্যাদেশ নিয়ে আরও যাচাই-বাছাইয়ের প্রয়োজন হওয়ায় আপাতত ২০০৯ সালের আইন পুনর্বহাল করা হয়েছে।

২০২৫ সালের অধ্যাদেশের বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কথাও তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, তদন্ত প্রক্রিয়া, সময়সীমা, জরিমানা ও ক্ষতিপূরণ নির্ধারণে স্পষ্ট নির্দেশনা না থাকায় ভুক্তভোগীদের জন্য ন্যায়বিচার পাওয়া কঠিন হয়ে পড়তে পারে। এমনকি কমিশন নিজেই তদন্ত শেষে মামলা করতে পারার বিধান নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

গুম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি দেশের ইতিহাসে অন্যতম জঘন্য অপরাধ। “এ বিষয়ে কঠোর আইন থাকলেও অধ্যাদেশে ‘গুম কমিশন’ সংক্রান্ত সংজ্ঞায় অস্পষ্টতা রয়েছে, যা কার্যকারিতা ব্যাহত করতে পারে,” বলেন তিনি।

আইনমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, কোনো আইন গোপন উদ্দেশ্যে বা পক্ষপাতমূলকভাবে প্রণয়ন করা হলে তা শুরু থেকেই বাতিলযোগ্য হয়ে পড়ে। তাই তড়িঘড়ি করে আইন না করে সব পক্ষের মতামত নিয়ে একটি দীর্ঘমেয়াদি, কার্যকর আইন প্রণয়নের ওপর জোর দেন তিনি।

একই সঙ্গে তিনি জানান, বস্তি এলাকা থেকে শুরু করে রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে আলোচনা করে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও শক্তিশালী মানবাধিকার আইন তৈরি করা হবে। এ লক্ষ্যে সংসদ সদস্যদের সম্মিলিত ভূমিকা রাখার আহ্বানও জানান তিনি।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে