সপ্তাহে ৩ দিন অনলাইন, ৩ দিন সশরীরে ক্লাস, শিক্ষামন্ত্রীর নতুন সিদ্ধান্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ৯ এপ্রিল, ২০২৬, ০৪:০৬ পিএম
সপ্তাহে ৩ দিন অনলাইন, ৩ দিন সশরীরে ক্লাস, শিক্ষামন্ত্রীর নতুন সিদ্ধান্ত
ফাইল ছবি

রাজধানীর নির্বাচিত কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সপ্তাহে তিন দিন অনলাইন ও তিন দিন সশরীরে ক্লাস চালুর নতুন সিদ্ধান্ত জানিয়েছে সরকার। জ্বালানি সংকট, যানজট ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরীক্ষামূলকভাবে এই পদ্ধতি চালু করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট ও দনিয়া কলেজে আয়োজিত পৃথক অনুষ্ঠান ও সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এই তথ্য জানান।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, নতুন সময়সূচি অনুযায়ী শনিবার, সোমবার ও বুধবার শিক্ষার্থীরা সরাসরি শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত থাকবে। আর রোববার, মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার অনলাইনে ক্লাস অনুষ্ঠিত হবে। শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকবে। তিনি জানান, “এটি আপাতত পাইলট প্রকল্প হিসেবে ঢাকা মহানগরীর কিছু বড় ও যানজটপ্রবণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চালু করা হচ্ছে।”

এই সিদ্ধান্তের পেছনে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ও নগরীর তীব্র যানজটকে বড় কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাবে জ্বালানি পরিস্থিতি চাপে পড়েছে। সেই বাস্তবতায় শিক্ষা খাতেও বিকল্প পদ্ধতি খোঁজা হচ্ছে। “ডিজিটাল অ্যাডুকেশনের দিকে শিক্ষার্থীদের অভ্যস্ত করাই আমাদের লক্ষ্য,” বলেন তিনি।

মন্ত্রী আরও জানান, অনলাইন ক্লাস হলেও শিক্ষকদের বিদ্যালয়ে উপস্থিত থেকেই পাঠদান করতে হবে। একই সঙ্গে যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা রয়েছে, তাদের দিয়েই এই কার্যক্রম শুরু হবে। “সব প্রতিষ্ঠানে এটি বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে না, যাতে শিক্ষাব্যবস্থায় কোনো ধস না নামে,” বলেন তিনি।

এই উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন শিক্ষা সংশ্লিষ্টরাও। ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাজেদা বেগম বলেন, “যানজট ও যাতায়াত ব্যয়ের কারণে অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত ক্লাসে আসতে পারে না। তাদের জন্য অনলাইন ক্লাস স্বস্তি এনে দেবে।” তিনি আরও বলেন, অনলাইনে শেখা বিষয়গুলো সশরীরে ক্লাসে এসে পরিষ্কার করার সুযোগ থাকবে।

তবে শিক্ষকরা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন। পাশাপাশি অনলাইন ক্লাসে সমস্যায় পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা রাখার কথাও বলেছেন তারা।

সরকার জানিয়েছে, এই পদ্ধতি সফল হলে পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য মহানগরীতেও চালু করা হতে পারে। একই সঙ্গে স্কুলবাস সুবিধা থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে ধীরে ধীরে এই প্রকল্পের আওতায় আনার পরিকল্পনাও রয়েছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে