নতুন শুনানি ১৮ মে

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে আবারও ব্যর্থ সিআইডি

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ৯ এপ্রিল, ২০২৬, ০৪:২৩ পিএম
বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে আবারও ব্যর্থ সিআইডি

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন আবারও আদালতে জমা দিতে পারেনি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) প্রতিবেদন দাখিলের কথা থাকলেও তা সম্ভব হয়নি। ঢাকার অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম পরবর্তী শুনানি জন্য ১৮ মে দিন নির্ধারণ করেছেন।

২০১৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে সংরক্ষিত বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব থেকে হ্যাকাররা ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি করে। সুইফট পেমেন্ট ব্যবস্থায় ভুয়া বার্তা পাঠিয়ে এই অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়। ধারণা করা হয়, দেশের অভ্যন্তরের কোনো চক্রের সহায়তায় হ্যাকাররা এই অর্থ পাচার করেছে।

ঘটনার ৩৯ দিন পর, ২০১৬ সালের ১৫ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড বাজেটিং ডিপার্টমেন্টের উপপরিচালক জোবায়ের বিন হুদা মতিঝিল থানায় অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলাটি মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন-২০১২ (সংশোধনী ২০১৫) ও তথ্য ও প্রযুক্তি আইন-২০০৬-এর ধারায় করা হয়। একদিন পর, ১৬ মার্চ আদালত মামলাটির তদন্তভার সিআইডিকে প্রদান করে।

তদন্ত সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, চুরি হওয়া অর্থের একটি অংশ ইতিমধ্যেই উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। শ্রীলঙ্কা থেকে ২ কোটি ডলার ফেরত এসেছে। ফিলিপাইনের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশন থেকে পাওয়া হয়েছে ৬৮ হাজার ডলার। এছাড়া অন্যান্য উদ্যোগে প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ ডলার উদ্ধার হয়েছে। সম্প্রতি ঢাকার একটি আদালত আরসিবিতে থাকা ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার বাজেয়াপ্ত করে দেশে ফেরত আনার আদেশ দিয়েছেন।

ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক রুকনুজ্জামান জানিয়েছেন, “আজকের নির্ধারিত দিনে সিআইডি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় আদালত নতুন শুনানি ১৮ মে ধার্য করেছেন। আমরা মামলার যথাযথ সমাধানের জন্য কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।”

২০১৬ সালের এ চুরি ঘটনা বাংলাদেশের ব্যাংকিং ও তথ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর বড় আঘাত হিসেবে ধরা হয়। চুরি এবং পরবর্তী অর্থ উদ্ধার নিয়ে দেশের অর্থনৈতিক ও আইন প্রণালী সংশ্লিষ্টদের নজর এখনও উচ্চতর।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে