পাবনার বেড়ায় বছরের পর বছর ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি জোরপূর্বক দখল করে নৌ-বন্দর গড়ে তোলার পাশাপাশি অবৈধভাবে সরকারিভাবে ইজারা প্রদান করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে ওই জমির প্রকৃত মালিকেরা হতাশ হয়ে পড়েছেন। বিশেষ করে ওই সকল জমি অধিগ্রহণ কিংবা জমির মালিকদের কোন প্রকার ক্ষতিপূরণ না দিয়ে জোরপূর্বক নৌ-বন্দর হিসেবে গড়ে তোলায় জমির মালিকেরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
জানা যায়, শত বছর আগে বেড়া পৌরসভার কতিপয় বাসিন্দাদের উদ্যোগে পৌরসভার বৃশালিকা কোলঘাট এলাকায় তাদের ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির উপর গড়ে তোলা হয় কোলঘাট ও বাজার। মূলতঃ ওই সকল জমির মালিকেরা বেড়াবাসীর কৃষি পণ্য বাজারজাত করার লক্ষে বে-সরকারিভাবে ওই কোলঘাট ও বাজার গড়ে তোলেন। ভুক্তভোগী জমির মালিক মোঃ শোভন জানান, আমরা এলাকার বৃহত্তর স্বার্থে ইছামতি ও হুরাসাগর নদীর পাশে ব্যক্তি মালিকানাধীন জায়গার উপর ওই বাজার গড়ে তুলি। এ সময় বাজারের ব্যবসায়ীরা আমাদের জমির ভাড়া বাবদ মাসিক কিছু আর্থিক সুবিধা দিতেন। পাশাপাশি ব্যবসায়ীরা জমির মালিকদের সাথে এ সংক্রান্ত চুক্তি সম্পাদন করে বছরের পর বছর ব্যবসা-বাণিজ্য করে আসছিলেন। কিন্তু ব্যবসায়ী এবং জমির মলিকদের মধ্যকার দীর্ঘদিনের ওই চুক্তি এবং সম্প্রীতি ২০০৮সালে ভেস্তে যায়। ভুক্তভোগী জমির মালিকদের অভিযোগ অনুযায়ী ওই সময় বেড়া পৌরসভার মেয়র আব্দুল বাতেন ক্ষমতার অপব্যবহার করে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমিতে গড়ে ওঠা ওই কোলঘাট-বাজার জোরপূর্বক দখলে নেন। সেই সঙ্গে তিনি ওই জমি অধিগ্রহণ কিংবা জমির মালিকদের কোন প্রকার ক্ষতিপূরণ না দিয়ে বৃশালিকা কোলঘাট-বাজারকে অবৈধভাবে বেড়া পৌর নৌ-বন্দর হিসেবে গড়ে তোলেন। শুধু তাই নয়, তিনি বিআইডব্লিউটিএ’র কতিপয় অসাধু কর্মকর্তাদের সাথে যোগসাজশে অবৈধভাবে গড়ে তোলা ওই নৌ-বন্দর সরকারিভাবে নামেমাত্র ইজারা দিয়ে অবৈধাবে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। ভুক্তভোগী জমির মালিকরা এ ব্যাপারে প্রতিবাদ করার ও কোন সাহস পায়নি। এদের মধ্যে দু’একজন প্রতিবাদ করায় এলাকার গডফাদার হিসেবে পরিচিত প্রভাবশালী মেয়র উক্ত বাতেন ক্ষমতার অপব্যবহার করে তার সৃষ্ট কালো আইনের মাধ্যমে তাদের দফায় দফায় হয়রানি করেন। তবে রাজনৈতিক পটপরির্বনের পর বিআইডব্লিউটিএ বৃশালিকা কোলঘাট বাজারটি ২০২৫-২০২৬অর্থ বছরের জন্য দরপত্র আহবান করলে মির্জা মেহেদী হাসান নামে জনৈক ব্যক্তি সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে কোলঘাটটি ইজারা পান। তবে মির্জা মেহেদী কোলঘাটটি বৈধভাবে ইজারা পেলেও উক্ত মেয়র বাতেন কর্তৃক সৃষ্ট জটিলতার কারণে তিনি টোল আদায় করতে হিমশিম খাচ্ছেন। বিশেষ করে উক্ত বাতেন ক্ষমতার অপব্যবহার করে ব্যক্তি মালিকানাধীন ওই জমি অধিগ্রহণ বা ক্ষতি পূরণ না দিয়ে সেখানে অবৈধভাবে নৌ-বন্দর গড়ে তোলায় যে আইনী জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে বর্তমানে তা প্রকট আকার ধারণ করেছে। এতে একদিকে মোটা অংকের টাকা দিয়ে বন্দরটি ইজারা নিয়ে ইজারাদার মেহেদী বিপাকে পড়েছেন, অন্যদিকে জমির মালিকরাও একইভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। ভুক্তভোগী ইজারাদার এবং জমির মালিকারা এ ব্যাপারে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। এ ব্যাপারে জানতে উক্ত বাতেনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তবে এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ’র জনৈক কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোন সদুত্তর দেননি।