রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে রোগীরা বিনামূল্যে জলাতঙ্ক রোগের ভ্যাকসিন পেতেন। তবে এখন ভ্যাকসিনের সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এতে অনেক রোগী হাসপাতালে এসে ভ্যাকসিন না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। একই অবস্থা শহরের ফার্মেসি গুলোতে, কোথাও জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন পাওয়া যাচ্ছে না।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছয় মাস ধরে বন্ধ রয়েছে সরকারিভাবে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিনের সরবরাহ। এসময় রাজশাহী রামেক হাসপাতাল নিজস্ব উদ্যাগে চালিয়েছে। সেটিও শেষ হয়েছে তিন দিন আগে। এমন পরিস্থিতিতে পুরোদমে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন দেওয়া বন্ধ রয়েছে হাসপাতালটিতে। ফলে চিকিৎসা প্রত্যাশীরা হাসপাতালে এসে ফিরে যাচ্ছেন।
রামেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, নিজস্ব উদ্যোগে স্থানীয়ভাবে ওষুধ কিনে রোগীদের বিনামূল্যে সেবা দেওয়ার চেষ্টা করলেও বর্তমানে সেই তহবিল ফুরিয়ে গেছে। গত তিন দিন ধরে এই জরুরি ভ্যাকসিনের মজুদ একদমই শেষ হয়ে যাওয়ায় সাধারণ রোগীরা চরম সংকটে পড়েছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিয়মিতভাবে মন্ত্রণালয়ের সাথে যোগাযোগ চালিয়ে গেলেও নতুন করে ওষুধ পাওয়ার বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট আশ্বাস মেলেনি।
জানা গেছে, হাসপাতালটিতে প্রতিদিন গড়ে ২৭০ থেকে ২৮০ জন রোগী জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন নেন। সে হিসাবে রোগীদের জন্য প্রতি মাসে প্রায় সাড়ে ৮ হাজার পিস ভ্যাকসিন প্রয়োজন হয়। বর্তমানে ভ্যাকসিন না পেয়ে ফিরে যাচ্ছে রোগীরা।
হাসপাতালে এসে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন না পেয়ে রোগীর স্বজন রাশেদ রিপন বলেন, দুপুরে হাসপাতালে গিয়ে জানা গেছে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন নেই। আমাদের মতো অনেকে ফিরে গেছে। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সরকারিভাবে ছয় মাস থেকে বন্ধ রয়েছে ভ্যাকসিন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এই ছয় মাস নিজস্ব তত্ত্বাবধানে চালিয়েছে। তিন দিন থেকে তারাও বন্ধ রেখেছে।
তিনি বলেন, লক্ষ্মীপুরে কয়েকটি ফার্মাসিতে পাওয়া যাচ্ছে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন। একেকটির দাম ধরা হচ্ছে ৪৮০ টাকা। এটা ভাগাভাগি করে দেওয়া যাবে। সেখানে খরচ কম হবে। কিন্তু আমরা কেন ভ্যাকসিন কিনব। এটা তো সরকারিভাবে হাসপাতালে সরবরাহ করার কথা। অনেকে ফ্রি ভ্যাকসিন নিতে এসে দেখছেন ভ্যাকসিন নেই। পরে তারা বাইরের ফার্মেসি থেকে কিনতে গিয়ে ভ্যাকসিন পাচ্ছেন না।
আক্রান্ত সঞ্জয় রায় বলেন, কয়েকদিন আগে কুকুরে কামড় দিয়েছিল। স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছি, কিন্তু ডাক্তার বলেছে, দ্রুত জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন নিতে হবে। হাসপাতালে এসে দেখি ভ্যাকসিনই নেই। এখন খুব ভয় লাগছে এই রোগ হলে তো বাঁচার উপায় নেই।
বাঁধন হোসেন নামের আরেক রোগী বলেন, হাসপাতালে এসে জানতে পারলাম জলাতঙ্কের কোনো ভ্যাকসিন নেই। এটা খুবই দুঃখজনক। একটা প্রাণঘাতী রোগের ভ্যাকসিন যদি হাসপাতালে না থাকে, তাহলে আমরা কোথায় যাবো? বাধ্য হয়ে বাইরে খুঁজতে হচ্ছে, কিন্তু সব জায়গায় পাচ্ছিও না, অনেক খোঁজ খুঁজির একটা দোকানে পেলাম।
তবে চিকিৎসা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কুকুরের সুনির্দিষ্ট কোনো প্রজনন মৌসুম নেই। যদিও নির্দিষ্ট কোনো ঋতু নেই, তবু অনেক জায়গায় ভাদ্র ও আশ্বিন মাসকে (আগস্ট-অক্টোবর) কুকুরের প্রজননের জন্য বেশি সক্রিয় সময় হিসেবে ধরা হয়। বর্তমানে অনেক কুকুর বাচ্চা প্রসব করেছে। এ কারণে বাচ্চাদের রক্ষায় তারা আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। ফলে বিভিন্ন সময়ে কুকুর তেড়ে এসে মানুষকে কামড় দিচ্ছে। এমন ঘটনা অহরহ ঘটছে। তাই সরকারিভাবে দ্রুত জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন সরবরাহ করা জরুরি।
রোগী ও তাদের স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালে ভ্যাকসিনের তীব্র সংকট রয়েছে। হাসপাতাল থেকে ভ্যাকসিন না পেয়ে মানুষ বাইরে ফার্মেসিতে খোঁজ করছেন। কিন্তু সেখানেও জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন পাওয়া যাচ্ছে না।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের মুখপাত্র শং
কর কে বিশ্বাস বলেন, ছয় মাস থেকে একেবারে সরবরাহ নেই। এর মাঝে আমরা স্থানীয়ভাবে ক্রয় করে বিনামূল্যে রোগীদের সরবরাহ করেছি। এখন আর সেটারও সুযোগ নেই। এখন কোনো অবস্থাতে রোগীদের বিনামূল্যে এই ভ্যাকসিন সরবরাহ করার সুযোগ নাই। আমরা মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করেছি। সেখান থেকে এখন পর্যন্ত কিছু জানায়নি।