পহেলা বৈশাখে পান্তা ইলিশের বদলে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে ভিন্ন আয়োজন

এফএনএস (মিজানুর রহমান; চাঁদপুর) : | প্রকাশ: ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ০৫:০০ পিএম
পহেলা বৈশাখে পান্তা ইলিশের বদলে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে ভিন্ন আয়োজন

চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনায় মার্চ-এপ্রিল ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ থাকায় এবং চড়া দামের কারণে পহেলা বৈশাখে পান্তা-ইলিশের প্রচলন কমেছে। এখন ইলিশের পরিবর্তে পান্তার সাথে বিভিন্ন ভর্তা ও দেশীয় মাছের মেনু জনপ্রিয় হচ্ছে। অবৈধ জাটকা সংরক্ষণ ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রশাসনের কঠোর নজরদারিতে এই পরিবর্তন এসেছে। জাটকা নিধন রোধে পহেলা বৈশাখে ইলিশ না খাওয়ার সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিকল্প আয়োজন হিসেবে ইলিশের উচ্চ মূল্য এবং সহজলভ্য না হওয়ায় মানুষ মেনু পরিবর্তন করে অন্য মাছ রাখছে। এই পরিবর্তনের ফলে, এখন পহেলা বৈশাখের আয়োজনে পান্তা ভাতের সাথে ইলিশের বদলে বিভিন্ন ভর্তা, রুই মাছ বা অন্যান্য সহজলভ্য মাছের পদ শোভা পাচ্ছে। কেউ কেউ অবশ্য আগে থেকে সংরক্ষণ করে রেখে পয়লা বৈশাখে পান্তা-ইলিশের আয়োজন করে। তবে এখন প্রকাশ্যে ইলিশ বিক্রি নিষিদ্ধ ও দণ্ডনীয়।

মার্চ-এপ্রিল দুই মাস চাঁদপুরের অভয়াশ্রম এলাকায় ইলিশসহ সব ধরনের মাছ আহরণ, ক্রয়-বিক্রয়, পরিবহন ও মজুত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তবে জাটকা ধরায় নিষেধাজ্ঞা চালু হওয়ার আগে চাঁদপুরের ইলিশের চাহিদা ছিল ব্যাপক। তখন শেষ সময়ে ইলিশ চড়া দামে বিক্রি হতো।চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী বলেন, ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে জাটকা সংরক্ষণে জেলার সব মহল সচেতন ও প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। যে কারণে পয়লা বৈশাখে পান্তা-ইলিশ খাওয়ার প্রচলন বন্ধ হয়ে গেছে। একসময় প্রেসক্লাব থেকে পান্তা-ইলিশ খাওয়ার মাধ্যমে পয়লা বৈশাখ উদ্যাপন কার্যক্রম শুরু হতো। এখন মেনু পরিবর্তন করে অন্য মাছ রাখা হয়েছে।চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমবায় সমিতি লিমিটেডের সাধারণ সম্পাদক হাজী শবেবরাত সরকার বলেন, চাঁদপুর মৎস্য অবতরণকেন্দ্রে মার্চ-এপ্রিল দুই মাস ইলিশ বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। বেআইনি কোনো কার্যক্রম করলে সে বিষয়ে প্রশাসন ব্যবস্থা নিচ্ছে। তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞার আগে বড় সাইজের ইলিশ বিক্রি হয়েছে ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার ২০০ টাকা কেজি। চাঁদপুর সদর উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক বলেন, জাটকা সংরক্ষণ এবং ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে মার্চ-এপ্রিল দুই মাস দিন ও রাতে টাস্কফোর্স কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। ইলিশ যাতে প্রকাশ্যে বিক্রি করতে না পারে, সে জন্য জলে-স্থলে সব জায়গায় অভিযান চলমান। জড়িত ব্যক্তিদের জেল-জরিমানা করা হচ্ছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে